॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ২২ ॥

যত্তু কৃৎস্নবদেকস্মিন্ কার্যে সক্তমহৈতুকম্ ।
অতত্ত্বার্থবদল্পং চ তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥ ২২ ॥

সরল ভাবার্থ

যে জ্ঞান যুক্তিবর্জিত, সত্যবিমুখ এবং অতি নগণ্য কোনো একটি বিষয়কেই (যেমন দেহ বা মূর্তিকে) পূর্ণাঙ্গ সত্য মনে করে তাতে আসক্ত থাকে, তাকে 'তামসিক জ্ঞান' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

তামসিক জ্ঞান হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন জ্ঞান বা অন্ধবিশ্বাস। এই স্তরের মানুষ কোনো বিচার-বুদ্ধি ছাড়াই একটি ক্ষুদ্র বিষয়কে আঁকড়ে ধরে এবং মনে করে এটাই দুনিয়ার সব। এর বড় উদাহরণ হলো 'দেহাত্মবোধ'—অর্থাৎ শরীরকেই আত্মা মনে করা। তামসিক ব্যক্তি কেবল খাওয়া, ঘুমানো এবং শরীরের আরাম নিয়ে মগ্ন থাকে। সে মনে করে এই শরীরটাই সে নিজে, এর বাইরে কোনো ঈশ্বর বা উচ্চতর চেতনা নেই।

এই জ্ঞান 'অহৈতুকম্' বা যুক্তিহীন। যেমন কোনো কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরে থাকা অথবা কোনো যুক্তিহীন গোঁড়ামিতে মগ্ন হওয়া। তারা সত্য অনুসন্ধান করতে চায় না এবং যা সত্য নয় তাকেই চরম সত্য বলে প্রচার করে। একে 'অল্প' বলা হয়েছে কারণ এটি মানুষের অসীম সম্ভাবনাকে একটি ছোট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে।

তামসিক জ্ঞান মানুষকে উগ্র এবং কট্টর করে তোলে। কারণ সে অন্য কোনো সত্য গ্রহণ করতে রাজি নয়। এই সংকীর্ণতা তাকে পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়। যারা কেবল ইন্দ্রিয়সুখকেই জীবনের লক্ষ্য মনে করে, তারা আসলে এই তামসিক জ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে আছে। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সত্য কেবল একটি বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়, তা অসীম। সেই অসীমকে না জেনে ক্ষুদ্রকে নিয়ে পড়ে থাকাটাই হলো জ্ঞানের বিনাশ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ক্ষুদ্রকে বৃহৎ মনে করাই হলো অজ্ঞানতা। তামসিক জ্ঞান মানুষকে আবদ্ধ করে রাখে, আর সাত্ত্বিক জ্ঞান তাকে মুক্ত করে। ভ্রান্ত বিশ্বাসই হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রধান অন্তরায়।