॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ২৩ ॥

নিয়তং সঙ্গরহিতমরাগদ্বেষতঃ কৃতম্ ।
অফলপ্রেপ্সুনা কর্ম যত্তৎ সাত্ত্বিকমুচ্যতে ॥ ২৩ ॥

সরল ভাবার্থ

ফলের আকাঙ্ক্ষা না করে, আসক্তিহীন হয়ে এবং রাগ-দ্বেষ বর্জিত হয়ে যে শাস্ত্রবিহিত কর্ম করা হয়, তাকে 'সাত্ত্বিক কর্ম' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

সাত্ত্বিক কর্ম হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ ইবাদত বা উপাসনা। এর চারটি প্রধান স্তম্ভ আছে: ১. নিয়তম্: এটি শাস্ত্রসম্মত বা আমাদের নির্ধারিত পবিত্র কর্তব্য। ২. সঙ্গরহিতম্: এতে আমি করছি এমন অহংকার থাকে না। ৩. অরাগদ্বেষতঃ: এটি ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে হয় না; বরং যা করা উচিত, তা-ই করা হয়। ৪. অফলপ্রেপ্সুনা: এতে ফলের কোনো লোভ থাকে না।

একজন মানুষ যখন তার প্রাত্যহিক কাজগুলো কেবল তার দায়িত্ব মনে করে করে এবং তার পরিণাম নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না, তখন সেই কর্ম তাকে পবিত্র করে। সাত্ত্বিক কর্ম মানুষের মনকে শান্ত এবং নির্মল রাখে। এই ধরণের কাজে ক্লান্তি নেই, কারণ এখানে অহংকারের চাপ নেই। আপনি যখন কাউকে সাহায্য করেন এবং বিনিময়ে তার কাছে ধন্যবাদটুকুও আশা করেন না, তখন সেই সাহায্য সাত্ত্বিক হয়ে ওঠে।

শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে এই সংসারের মধ্যে থেকেও আমরা নিষ্কাম হতে পারি। আমাদের পেশা যাই হোক না কেন—চাকরি, ব্যবসা বা পড়াশোনা—তাকে যদি আমরা 'ভগবানের সেবা' হিসেবে গ্রহণ করি, তবে তা সাত্ত্বিক কর্মে রূপান্তরিত হয়। এটিই মানুষকে ধীরে ধীরে পরম শান্তির দিকে নিয়ে যায়। এটি কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক পথ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: নিঃস্বার্থ কর্মই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা। যখন কাজ করার আনন্দই প্রধান হয় এবং ফল গৌণ হয়, তখনই মানুষ দেবত্বের স্বাদ পায়। সাত্ত্বিক কর্মই আত্মার উন্নতির সোপান।