॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ২৬ ॥

মুক্তসঙ্গোঽনহংবাদী ধৃত্যুৎসাহসমন্বিতঃ ।
সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোর্নির্বিকারঃ কর্তা সাত্ত্বিক উচ্যতে ॥ ২৬ ॥

সরল ভাবার্থ

যিনি আসক্তিহীন, দর্প বা অহংকারবর্জিত, ধৈর্য ও উৎসাহযুক্ত এবং কর্মের সিদ্ধি বা অসিদ্ধিতে (সফলতা বা বিফলতা) অবিচলিত বা নির্বিকার থাকেন, তাঁকে 'সাত্ত্বিক কর্তা' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে আদর্শ কর্মীর বা মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। সাত্ত্বিক কর্তা হলেন তিনি, যাঁর কাজের পেছনে কোনো জাগতিক মোক্ষ বা 'আমি করছি'—এমন দেমাক নেই (মুক্তসঙ্গোঽনহংবাদী)। তাঁর সবচাইতে বড় সম্পদ হলো 'ধৃতি' (ধৈর্য) এবং 'উৎসাহ'। আধ্যাত্মিক পথে চলতে গেলে কেবল উৎসাহ থাকলে হয় না, কারণ বাধা এলে মানুষ দমে যায়; আবার কেবল ধৈর্য থাকলে গতি আসে না। সাত্ত্বিক ব্যক্তির মধ্যে এই দুটির অপূর্ব সমন্বয় থাকে।

তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র হলো 'সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোর্নির্বিকারঃ'। এর অর্থ হলো, কাজ সফল হলে তিনি আনন্দে আত্মহারা হন না, আবার ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়েন না। তিনি জানেন যে তিনি তাঁর সেরাটা দিয়েছেন এবং ফলাফল ঈশ্বরের হাতে। এটিই হলো প্রকৃত মানসিক শান্তি। এমন ব্যক্তি কোনো পুরস্কারের আশায় কাজ করেন না, বরং কাজ করাটাকেই তাঁর পূজা বলে মনে করেন।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে সাফল্য বা ব্যর্থতা আসলে মনের এক একটি অবস্থা মাত্র। আপনি যদি আইআইটি-বোম্বের মতো বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান, তবে আপনার মধ্যে এই সাত্ত্বিক গুণ থাকা জরুরি। ধৈর্য হারানো চলবে না, আবার কাজ করার উৎসাহও কমানো যাবে না। যখন আপনি ফলাফলকে ভগবানের চরণে অর্পণ করে কেবল আপনার কর্তব্যে একাগ্র হবেন, তখনই আপনি সাত্ত্বিক কর্তার স্তরে পৌঁছাতে পারবেন। এই মানসিকতা মানুষকে অপরাজেয় করে তোলে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভারসাম্যই হলো সাত্ত্বিকতার পরিচয়। যখন কর্ম কেবল সেবার মানসিকতায় করা হয় এবং অহংকার দূরে থাকে, তখনই মানুষ কর্মযোগী হয়ে ওঠে।