॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ২৭ ॥

রাগী কর্মফলপ্রেপ্সুলুব্ধো হিংসাত্মকোহশুচিঃ ।
হর্ষশোকান্বিতঃ কর্তা রাজসঃ পরিকীর্তিতঃ ॥ ২৭ ॥

সরল ভাবার্থ

যিনি আসক্তিপূর্ণ, কর্মফলের প্রত্যাশী, লোভী, হিংস্র স্বভাবের, অপবিত্র এবং জয়-পরাজয়ে অতিশয় হর্ষ ও শোকগ্রস্ত হন, তাঁকে 'রাজসিক কর্তা' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

রাজসিক কর্তা হলেন অস্থিরতার প্রতীক। তাঁর কাজের চালিকাশক্তি হলো 'লোভ' এবং 'আকাঙ্ক্ষা'। তিনি যা কিছু করেন, তার পেছনে গভীর স্বার্থ থাকে। তিনি ফলের জন্য এতই ব্যকুল থাকেন যে, ফল পাওয়ার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তিনি 'হিংসাত্মক' হয়ে ওঠেন। তাঁর মন সর্বদা অপবিত্র (অশুচিঃ) থাকে কারণ তাঁর মধ্যে স্বার্থপর চিন্তা ও প্রতিযোগিতার বিষ কাজ করে।

এই ধরণের মানুষের সবচাইতে বড় দুর্বলতা হলো 'হর্ষশোকান্বিতঃ'। সামান্য সাফল্যে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করেন এবং আনন্দে আত্মহারা হয়ে অহংকার প্রদর্শন করেন। আবার সামান্য ব্যর্থতা বা লোকসান হলে তিনি গভীর শোকে নিমজ্জিত হন এবং হতাশায় ভেঙে পড়েন। তাঁর আবেগ সর্বদা ওঠানামা করে, ফলে তিনি কখনও স্থির হতে পারেন না।

আজকের পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষ এই রাজসিক স্তরে আছেন। মানুষ কেবল টাকার জন্য বা অন্যকে দেখানোর জন্য কাজ করে। এই ধরণের জীবনধারা সাময়িকভাবে অনেক উন্নতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অশান্তি ও শারীরিক রোগ ডেকে আনে। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সতর্ক করছেন যে, কেবল ফলের আশায় কাজ করলে সেই কাজ আমাদের বন্দি করে ফেলে। শান্তি পেতে হলে রাজসিকতার এই চঞ্চলতা ত্যাগ করে স্থিতধী হতে হবে। কর্মের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আত্মার শুদ্ধি, কেবল ইন্দ্রিয়সুখ নয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: আসক্তিই হলো রাজসিকতার মূল। যেখানে স্বার্থ আছে, সেখানেই ভয় ও শোক আছে। রাজসিক কর্তা ফলের দাস হয়ে পড়েন, ফলে তিনি প্রকৃত স্বাধীনতা হারান।