সরল ভাবার্থ
যিনি অসংযত, অশিক্ষিত (সংস্কৃতিহীন), অনমনীয় (অহংকারী), শঠ বা প্রবঞ্চক, অন্যের অনিষ্টকারী, অলস, বিষণ্ণ এবং দীর্ঘসূত্রী (সব কাজে দেরি করেন), তাঁকে 'তামসিক কর্তা' বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
তামসিক কর্তা হলেন অন্ধকারের প্রতীক। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'অলসতা' এবং 'দীর্ঘসূত্রিতা'। তিনি আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখেন (দীর্ঘসূত্রী) এবং নিজের উন্নতির কোনো চেষ্টাই করেন না। তিনি 'প্রাকৃত' বা স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন, অর্থাৎ শাস্ত্র বা গুরুর কোনো উপদেশ মানতে চান না। তাঁর মনে অহংকার এমনভাবে জেঁকে বসে যে তিনি কারোর কাছে মাথা নত করেন না (স্তব্ধঃ)।
তামসিক ব্যক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারেন কারণ তিনি 'নৈষ্কৃতিক'—অর্থাৎ তিনি অন্যের অপকার করে আনন্দ পান এবং নিজের স্বার্থে যে কাউকে ঠকাতে (শঠঃ) পারেন। তাঁর মন সব সময় বিষাদে (বিষাদী) ভরা থাকে। তিনি মনে করেন পৃথিবীটা তাঁর প্রতি অন্যায় করছে এবং তিনি সারাক্ষণ ভাগ্যের দোষ দেন। নিজের আলস্যকে ঢাকতে তিনি অজুহাতের জাল বোনেন।
এই শ্লোকটি আমাদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবাণী। আলস্য এবং নেতিবাচক চিন্তা হলো আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উন্নতির সবচাইতে বড় শত্রু। একজন মানুষ যদি মেধাবীও হন, কিন্তু তিনি যদি তামসিক গুণের অধিকারী হন, তবে তাঁর পতন নিশ্চিত। আমাদের উচিত নিজের ভেতরের এই তামসিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোকে দূর করা। কর্মতৎপরতা এবং সত্যনিষ্ঠাই পারে এই তামসিকতা থেকে আমাদের মুক্ত করতে। অন্ধকার থেকে আলোতে আসার জন্য আলস্য ত্যাগ করাই হলো প্রথম পদক্ষেপ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জড়তা এবং প্রবঞ্চনাই তামসিকতার লক্ষণ। যে ব্যক্তি নিজের উন্নতির জন্য সচেষ্ট নয় এবং অন্যের ক্ষতি চায়, সে আসলে নিজের আত্মাকেই ধ্বংস করে।