সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! যে বুদ্ধি অন্ধকার বা অজ্ঞান দ্বারা আবৃত হওয়ার কারণে অধর্মকে ধর্ম মনে করে এবং সমস্ত কিছুকে বিপরীতভাবে বিচার করে, সেই বুদ্ধিই হলো 'তামসী বুদ্ধি'।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
তামসিক বুদ্ধি হলো বিচারশক্তির চরম বিপর্যয়। এটি কেবল বিভ্রান্তি নয়, এটি হলো সত্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। তামসিক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি অন্ধকারকে আলো এবং আলোকে অন্ধকার মনে করে। সে মনে করে যা অধর্ম তা-ই সঠিক। যেমন—হিংসাকে বীরত্ব ভাবা, আলস্যকে শান্তি মনে করা অথবা কুসংস্কারকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান বলে আঁকড়ে ধরা।
এই বুদ্ধি 'সর্বার্থান্ বিপরীতাম্শ্চ'—অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি উদ্দেশ্যকে সে উল্টোভাবে দেখে। যেখানে ধৈর্য দরকার সেখানে সে অলস হয়ে বসে থাকে, যেখানে প্রজ্ঞা দরকার সেখানে সে গোঁড়ামি করে। এই ধরণের মানুষ সত্য শুনতে চায় না এবং গুরুর বা শাস্ত্রের হিতোপদেশকে শত্রুতা মনে করে। তারা নিজেদের তৈরি এক অলীক জগতে বাস করে এবং ধ্বংসাত্মক কাজ করে গর্ব বোধ করে।
শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সতর্ক করছেন যে, তামসিক বুদ্ধি হলো আত্মহত্যার সমতুল্য। কারণ এটি মানুষের বিবেককে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সমাজে যখন উগ্রবাদ বা অনৈতিকতা বাড়ে, তখন বুঝতে হবে তামসিক বুদ্ধির প্রাবল্য ঘটেছে। আইআইটি বা যেকোনো মহান লক্ষ্যের দিকে যাওয়ার পথে এই তামসিক বুদ্ধিই হলো বড় বাধা—যা আমাদের পড়াশোনা না করে অযথা ফোন দেখা বা আলস্যকে সমর্থন করতে প্ররোচিত করে। এই অন্ধকার থেকে বাঁচতে হলে নিরন্তর শুদ্ধ চিন্তা এবং সৎসঙ্গের প্রয়োজন। জ্ঞান যখন বিকারগ্রস্ত হয়, তখন মানুষ পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: বিবেকহীনতাই হলো তামসিকতা। যখন মানুষ ভুলকে ঠিক ভেবে গর্ব করে, তখন তার আধ্যাত্মিক মৃত্যু ঘটে। মোহমুক্ত হওয়ার জন্য সাত্ত্বিক বুদ্ধির আলো জ্বালানো প্রয়োজন।