সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! একাগ্র যোগের দ্বারা মানুষ যে অবিচলিত সংকল্পশক্তির মাধ্যমে মন, প্রাণ এবং ইন্দ্রিয়সমূহের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকেই 'সাত্ত্বিকী ধৃতি' বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত শক্তির কথা বলেছেন। 'ধৃতি' মানে হলো সংকল্প বা ধৈর্য যা আমাদের লক্ষ্যপথে স্থির রাখে। সাত্ত্বিক ধৃতি হলো সেই শক্তি যা কোনো অবস্থাতেই পথভ্রষ্ট হয় না (অব্যভিচারিণী)। যখন একজন ভক্ত বা সাধক পরমাত্মার ধ্যানে মগ্ন হন, তখন তাঁর মন বাইরের জগতের আকর্ষণ ছেড়ে ভেতরের দিকে অন্তর্মুখী হয়।
এই শ্লোক অনুযায়ী, সাত্ত্বিক ধৃতি মন, প্রাণ এবং ইন্দ্রিয়—এই তিনটিকে শাসন করে। আমাদের মন সর্বদা চঞ্চল, ইন্দ্রিয়গুলো রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শের দিকে ধাবিত হয় এবং প্রাণশক্তি জাগতিক ভোগে ব্যয়িত হয়। কিন্তু সাত্ত্বিকী ধৃতি এই সবগুলোকে একসূত্রে গেঁথে পরম সত্যের দিকে পরিচালিত করে। এটি কেবল জেদ নয়, এটি হলো এক আধ্যাত্মিক স্থৈর্য যা ঈশ্বরলাভের জন্য অপরিহার্য।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের ইন্দ্রিয়কে জয় করতে পারে না, সে কখনও শান্তি পায় না। সাত্ত্বিক ধৃতি সম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিচলিত হন না। তাঁর সংকল্প পাথরের মতো শক্ত এবং আয়নার মতো স্বচ্ছ। এটি আত্মিক বলের বহিঃপ্রকাশ। এই সংকল্প শক্তি যার আছে, মায়া তাঁকে মোহিত করতে পারে না। তিনি জগতের অনিত্যতাকে তুচ্ছ করে অমৃতের পথে অগ্রসর হন। এই ধৃতিই হলো সব সাধনার মূল ভিত্তি।
তাত্ত্বিক গভীরতা: আত্মজয়ী হওয়াই হলো সাত্ত্বিক ধৃতির শ্রেষ্ঠ লক্ষণ। যখন আমাদের ইচ্ছাশক্তি ভগবানের ইচ্ছার সাথে এক হয়ে যায়, তখনই তা পূর্ণতা পায়।