সরল ভাবার্থ
হে অর্জুন! যে সংকল্পশক্তির দ্বারা মানুষ আসক্তিপূর্ণ হয়ে কেবল ফল লাভের কামনায় ধর্ম, অর্থ ও কামকে আঁকড়ে ধরে থাকে, তাকে 'রাজসী ধৃতি' বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
রাজসিক ধৃতি হলো কামনামিশ্রিত ধৈর্য। এই স্তরের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং ধৈর্যশীল হতে পারে, কিন্তু তাদের সেই ধৈর্য থাকে কেবল জাগতিক প্রাপ্তির জন্য। তারা ধর্ম পালন করে পুণ্যের লোভে, অর্থ উপার্জন করে ক্ষমতার লোভে এবং কাম বা বাসনা পূরণ করে ইন্দ্রিয়সুখের লোভে। এখানে 'প্রসঙ্গেন ফ্লাকাঙ্ক্ষী' শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যার অর্থ হলো কাজের ফলের ওপর গভীর আসক্তি।
রাজসিক ধৃতিসম্পন্ন ব্যক্তি সর্বদা অস্থির থাকেন কারণ তাঁর শান্তি নির্ভর করে প্রাপ্তির ওপর। যদি তাঁর মনমতো ফল না আসে, তবে তাঁর ধৈর্য ভেঙে যায়। তিনি ঈশ্বরকে ডাকেন কেবল নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য। তাঁর আধ্যাত্মিকতাও এক প্রকারের লেনদেন। এই সংকল্প শক্তি মানুষকে সংসারের মায়াজালে আরও শক্তভাবে আবদ্ধ করে।
শ্রীকৃষ্ণ আমাদের বোঝাচ্ছেন যে, ফলের আশা নিয়ে যা কিছু করা হয়, তা আত্মাকে ক্লান্ত করে। রাজসিক ব্যক্তি অনেক কিছু অর্জন করলেও মনের গভীরে অতৃপ্তি থেকে যায়। কারণ মায়ার স্বভাবই হলো এটি কখনও কাউকে পূর্ণতা দেয় না। এই সংকল্পে অহংকার মিশ্রিত থাকে, তাই এটি সাত্ত্বিক ধৃতির মতো পবিত্র নয়। এটি মানুষকে কর্মচক্রের আবর্তে ঘুরপাক খাওয়ায়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: আসক্তিই রাজসিকতার বন্ধন। যেখানে স্বার্থ আছে, সেখানেই ভয় ও শোকের বীজ লুকানো থাকে। প্রকৃত মুক্তি কামনাহীন সংকল্পে।