॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৩৬-৩৭ ॥

যত্তদগ্রে বিষমিব পরিণামেঽমৃতোপমম্ ।
তৎসুখং সাত্ত্বিকং প্রোক্তমাত্মবুদ্ধিপ্রসাদজম্ ॥ ৩৭ ॥

সরল ভাবার্থ

যে সুখ আদিতে বা শুরুতে বিষের মতো কষ্টদায়ক কিন্তু পরিণামে অমৃতের মতো মধুময় এবং যা আত্মবিষয়ক বুদ্ধির প্রসন্নতা থেকে উৎপন্ন হয়, তাকেই 'সাত্ত্বিক সুখ' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে জীবনের সবচাইতে বড় সত্যটি প্রকাশ করেছেন। প্রকৃত সুখ কখনও সস্তা বা সহজলভ্য নয়। সাত্ত্বিক সুখ অর্জন করতে হলে শুরুতে অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং আত্মসংযম করতে হয়। তাই শুরুতে একে 'বিষের মতো' মনে হয়। যেমন—ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে উপাসনা করা বা ইন্দ্রিয়কে সংযত রাখা শুরুতে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। কিন্তু যখন সাধনার ফল পাওয়া যায়, তখন তা অমৃতের মতো শান্তি দেয়।

এই সুখ 'আত্মবুদ্ধিপ্রসাদজম্'—অর্থাৎ এটি কোনো বাইরের বস্তু বা বিষয় থেকে আসে না। এটি আসে নিজের ভেতরকার স্বচ্ছ বুদ্ধির প্রসন্নতা থেকে। যখন মন পবিত্র হয় এবং ভগবানের সান্নিধ্য অনুভব করে, তখন যে আনন্দ অনুভূত হয়, তা জাগতিক কোনো সুখের সাথে তুলনীয় নয়।

সাধারণ মানুষ কেবল তাৎক্ষণিক আরাম খোঁজে, তাই তারা সাত্ত্বিক সুখের স্বাদ পায় না। কিন্তু মহাপুরুষরা জানেন যে ত্যাগের পথই প্রকৃত আনন্দের পথ। যে সুখ ইন্দ্রিয়জ নয়, বরং প্রজ্ঞাজাত—তা-ই সাত্ত্বিক। এই সুখ মানুষকে চিরস্থায়ী শান্তি দান করে এবং তাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত করে। এটিই হলো সত্যের অমৃত রূপ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: কৃচ্ছ্রসাধনই আধ্যাত্মিক আনন্দের সোপান। যা শুরুতে কষ্ট দেয় কিন্তু শেষে শান্তি আনে, তা-ই শ্রেষ্ঠ। আত্মার প্রসন্নতাই হলো পরম সুখ।