॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৩৮ ॥

বিষয়েন্দ্রিয়সংযোগাদ্যত্তদগ্রেঽমৃতোপমম্ ।
পরিণামে বিষমিব তৎসুখং রাজসং স্মৃতম্ ॥ ৩৮ ॥

সরল ভাবার্থ

বিষয় এবং ইন্দ্রিয়ের সংযোগের ফলে যে সুখ শুরুতে অমৃতের মতো মনে হয়, কিন্তু পরিণামে বিষের মতো যন্ত্রণাদায়ক—সেই সুখকে 'রাজস সুখ' বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

রাজসিক সুখ হলো ইন্দ্রিয়ভোগের সুখ। এটি অত্যন্ত প্রলোভনময়। যখন আমাদের জিহ্বা কোনো সুস্বাদু খাবার পায় বা চোখ কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে খুব আনন্দ হয়। মনে হয় এটাই বুঝি স্বর্গ। কিন্তু এই সুখের মেয়াদ খুব অল্প। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন—'পরিণামে বিষমিব'। এর শেষ হয় দুঃখ, রোগ এবং মানসিক অস্থিরতায়।

অতিরিক্ত জাগতিক ভোগ শরীর ও মনকে দুর্বল করে দেয়। রাজসিক সুখের বড় সমস্যা হলো এটি কখনও তৃপ্তি দেয় না, বরং তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। আগুনের শিখায় ঘি ঢাললে যেমন আগুন আরও জ্বলে ওঠে, তেমনি রাজসিক সুখ ভোগের ইচ্ছাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে রিক্ত ও নিঃস্ব করে ছাড়ে। এটি মানুষকে মায়ায় আবদ্ধ করে ফেলে।

এই শ্লোকটি আমাদের সাবধান করে যে, যা কিছু বাইরে থেকে আনন্দ দিচ্ছে, তা চিরস্থায়ী নয়। ইন্দ্রিয় সুখের পেছনে ছোটা মানে হলো মৃগনাভির সন্ধানে হরিণের মতো ছুটে চলা। সত্য সুখ ভেতরের শান্তিতে, বাইরের বস্তুতে নয়। রাজসিক সুখ হলো এক প্রকারের ফাঁদ যা মানুষকে সারাজীবন কর্মের জালে ছুটিয়ে বেড়ায় এবং শেষে কেবল জরা ও শোক উপহার দেয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: অনিত্য বিষয়ের সংযোগে উৎপন্ন সুখ সর্বদা অস্থায়ী। যা শুরুতে প্রলোভিত করে কিন্তু শেষে পুড়িয়ে মারে, তা-ই রাজসিকতা। বিবেকবান মানুষের উচিত এর মায়া ত্যাগ করা।