সরল ভাবার্থ
যে সুখ আদিতে এবং পরিণামে—উভয় কালেই আত্মার মোহজনক এবং যা নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ (অসাবধানতা) থেকে উৎপন্ন হয়, তাকে 'তামস সুখ' বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
তামসিক সুখ হলো চরম অজ্ঞানতার সুখ। এটি মানুষের বিবেককে চিরতরে অন্ধ করে দেয়। এই সুখের উৎস হলো অতিরিক্ত ঘুম, অলস হয়ে বসে থাকা এবং কোনো নিয়ম-কানুন না মানা। তামসিক ব্যক্তি মনে করে এই জড়তায় কোনো কাজ না করাটাই হলো জীবনের সেরা আনন্দ। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, এটি হলো 'মোহনমাত্মনঃ'—অর্থাৎ আত্মার জন্য বিষস্বরূপ মোহ।
এই সুখে কোনো প্রগতি নেই, কোনো আলো নেই। এটি মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়। যারা কেবল নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকা বা অলসতায় দিন কাটানোকে সুখ মনে করে, তারা আসলে এক গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। তামসিক সুখের কোনো অমৃতময় পরিণাম নেই; এটি শুরু থেকেও ধ্বংসাত্মক এবং শেষেও ধ্বংসাত্মক।
তামসিক সুখ মানুষকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং জড় করে তোলে। সে সত্য অনুসন্ধান করতে ভয় পায়। বর্তমান যুগে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা বা মিথ্যে অজুহাতে কাজ না করাও তামসিক সুখের লক্ষ্মণ। এই সুখ মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এবং নীচ যোনির দিকে নিয়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণ এই আত্মঘাতী সুখ থেকে আমাদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। অন্ধকারকে ঘর মনে করা যেমন বোকামি, তামসিকতায় সুখ খোঁজা তেমনি বিভ্রান্তি।
তাত্ত্বিক গভীরতা: আলস্যই তামসিকতার প্রতীক। যা মানুষকে অচেতন রাখে, তা কখনও সুখ হতে পারে না। এটি চেতনার অধঃপতন মাত্র।