॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৫ ॥

যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্ ॥ ৫ ॥

সরল ভাবার্থ

যজ্ঞ, দান ও তপস্যা রূপ কর্ম কখনও বর্জন করা উচিত নয়, বরং তা অবশ্যই করা কর্তব্য। কারণ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষীগণেরও অন্তঃকরণ পবিত্রকারী।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুশাসন। ভগবান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যত বড় সন্ন্যাসী বা মহাত্মাই হোন না কেন—যজ্ঞ, দান ও তপস্যা এই তিনটি কাজ বর্জন করা যাবে না। 'কার্যমেব তৎ'—অর্থাৎ এগুলো অবশ্যই পালনীয়।

১. যজ্ঞ: এটি কেবল আগুনে ঘৃতাহুতি নয়, বরং নিঃস্বার্থভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মঙ্গলের জন্য কোনো মহৎ কর্ম করা। ২. দান: নিজের সম্পদ, জ্ঞান বা সময় অন্যের মঙ্গলে উৎসর্গ করা। ৩. তপস্যা: ইন্দ্রিয় সংযম ও তিতিক্ষার মাধ্যমে নিজের চরিত্র গঠন করা।

শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে, এমনকি 'মনীষী' বা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের জন্যও এই কাজগুলো 'পাবনানি' অর্থাৎ পবিত্রকারী। মানুষের মনে প্রতিদিন যে অহংকার, রাগ বা লালসার ময়লা জমে, এই তিনটি কাজ তা পরিষ্কার করার সাবান হিসেবে কাজ করে। আমরা অনেক সময় ভাবি যে আমি তো অনেক বড় সাধক হয়ে গেছি, আমার আর দান বা সেবার দরকার নেই। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এইগুলোই মানুষের প্রধান পাথেয়। এগুলো মনের আসক্তি দূর করে এবং মানুষকে নিরাসক্ত হতে সাহায্য করে। সমাজ ও ব্যক্তির আধ্যাত্মিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যজ্ঞ, দান ও তপস্যা হলো অপরিহার্য স্তম্ভ। এটি আমাদের জীবনকে একটি উদ্দেশ্য দান করে এবং পরমাত্মার সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: কর্মবন্ধন থেকে বাঁচার উপায় কর্ম ত্যাগ নয়, বরং পবিত্র কর্মে নিজেকে নিবিষ্ট রাখা। যজ্ঞ-দান-তপস্যা হলো আধ্যাত্মিক শৌচাগার যা আত্মাকে কলুষমুক্ত রাখে।