সরল ভাবার্থ
আমার একান্ত আশ্রিত হয়ে সর্বপ্রকার কর্ম করেও মানুষ আমার কৃপায় শাশ্বত ও অব্যয় পরম পদ লাভ করতে পারেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
পূর্ববর্তী শ্লোকগুলোতে জ্ঞান ও ধ্যানের মাধ্যমে মুক্তির কথা বলা হলেও, এই শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তি ও শরণাগতির অমোঘ শক্তির কথা বলেছেন। 'মদ্ব্যপাশ্রয়ঃ'—শব্দটির অর্থ হলো সম্পূর্ণভাবে ভগবানের ওপর নির্ভর করা। একজন সাধক যখন নিজের সব কাজের দায়িত্ব ভগবানের ওপর ছেড়ে দেন, তখন তাঁর কাজের প্রকৃতি যাই হোক না কেন, তা আর তাঁকে বন্ধনে ফেলে না।
সাধারণত মানুষ কর্মফলের আশায় কাজ করে এবং সেই কর্মফলই তাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ রাখে। কিন্তু ভগবানের আশ্রিত ব্যক্তি জানেন যে তিনি কেবল যন্ত্রমাত্র, যন্ত্রী হলেন ভগবান। এই ধরণের মানুষ সংসার ত্যাগ করে বনে না গেলেও, সংসারের সব কাজ করেও 'শাশ্বত ও অব্যয়' পদ লাভ করেন। এর অর্থ হলো মোক্ষ বা শ্রীবিষ্ণুর পরম ধাম।
এই শ্লোকটি কর্ম ও ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ভগবান আশ্বাস দিচ্ছেন যে, কাজের ত্রুটি বা সামাজিক বাধা কোনো বড় বিষয় নয়; যদি মনের গভীরে কেবল ভগবানের প্রতি নির্ভরতা থাকে, তবে তাঁর 'প্রসাদ' বা অসীম কৃপায় সব বাধা দূর হয়ে যায়। ভগবদ্কৃপা ছাড়া কেবল নিজের চেষ্টায় পরম পদ পাওয়া অসম্ভব। যখন আমাদের ক্ষুদ্র 'আমি' ভগবানের বিরাট 'আমি'র সাথে যুক্ত হয়, তখন আমাদের প্রতিটি কাজই উপাসনায় পরিণত হয়। এটিই হলো গৃহস্থ বা সাধারণ মানুষের জন্য মুক্তির সবচাইতে সহজ পথ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: শরণাগতিই হলো শ্রেষ্ঠ যোগ। নিজের শক্তিকে ভগবানের শক্তির সাথে যুক্ত করাই হলো পরম বুদ্ধিমত্তা। কৃপা যখন কাজ করে, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়।