সরল ভাবার্থ
অহংকারবশত যদি তুমি মনে করো যে তুমি যুদ্ধ করবে না, তবে তোমার সেই সংকল্প মিথ্যা হবে; কারণ তোমার প্রকৃতিই তোমাকে কার্যে নিযুক্ত করবে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে মানুষের মনস্তত্ত্বের এক গভীর রহস্য উন্মোচন করেছেন। অর্জুন অহংকারবশত (যে অহংকার নিজেকে অত্যন্ত দয়ালু বা ধার্মিক ভেবে তৈরি হয়েছে) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি যুদ্ধ করবেন না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, এই না করাটাও এক ধরণের জেদ। অর্জুন একজন ক্ষত্রিয়; বীরত্ব, লড়াই এবং ন্যায়বিচার তাঁর রক্তে মিশে আছে। এটাকে বলা হয় 'স্বভাব' বা 'প্রকৃতি'।
মানুষ অনেক সময় বাইরে থেকে ভাবে যে সে কিছু করবে না, কিন্তু তাঁর ভেতরের সংস্কার বা প্রকৃতি তাঁকে সেই কাজের দিকেই ঠেলে দেয়। অর্জুন যদি রণক্ষেত্র ছেড়ে চলেও যেতেন, তাঁর ক্ষাত্র-প্রকৃতি তাঁকে বেশিদিন শান্ত থাকতে দিত না। তিনি আবার কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতেনই।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে—প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৃথা। আমাদের উচিত আমাদের স্বভাবজাত গুণগুলোকে ভগবানের সেবায় লাগানো, সেগুলোকে জোর করে চেপে রাখা নয়। পলায়নবাদ কোনো মুক্তি নয়। যখন আমরা অহংকার করে বলি আমি এটা করবো না, তখন আমরা ভুলে যাই যে আমরা প্রকৃতির ত্রিগুণের হাতের পুতুলমাত্র। বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যিনি নিজের স্বভাবকে চিনে নিয়ে তাকে ধর্মের পথে পরিচালিত করেন। অহংকারের সংকল্প বালির বাঁধের মতো, যা প্রকৃতির ঢেউয়ে ধুয়ে যাবেই।
তাত্ত্বিক গভীরতা: স্বভাবই মানুষের প্রধান চালিকাশক্তি। নিজের প্রকৃতিকে অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। কর্মের থেকে পালানোর চেয়ে কর্মকে দিব্যরূপ দেওয়া শ্রেয়।