॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৬৪ ॥

সর্বগুহ্যতমং ভূয়ঃ শৃণু মে পরমং বচঃ ।
ইষ্টোঽসি মে দৃঢ়মিতি ততো বক্ষ্যামি তে হিতম্ ॥ ৬৪ ॥

সরল ভাবার্থ

তুমি আবারও আমার পরম রহস্যময় বাণী শ্রবণ করো। তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়, তাই তোমার মঙ্গলের জন্যই আমি এই কথা বলছি।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

পূর্ববর্তী শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন নিজের মতো বিচার করার। কিন্তু একজন দয়ালু বন্ধুর মতো তিনি জানতেন যে জগতসংসারের গোলকধাঁধায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিক পথ বেছে নেওয়া খুব কঠিন। তাই তিনি আবারও মুখ খুললেন। তিনি বলছেন 'সর্বগুহ্যতমং'—অর্থাৎ যা সবচাইতে গোপন এবং পরম সত্য।

এই শ্লোকটির মাধুর্য লুকিয়ে আছে 'ইষ্টোঽসি মে দৃঢ়মিতি' কথাটির মধ্যে। এর অর্থ হলো তুমি আমার পরম প্রিয়। ঈশ্বর কেবল দণ্ডদাতা বা বিচারক নন, তিনি আমাদের পরম হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু। অর্জুনের মাধ্যমে তিনি সমগ্র মানবজাতিকে বলছেন যে, তিনি আমাদের ভালোবাসেন। আর যেখানে ভালোবাসা থাকে, সেখানে গোপনীয়তা থাকে না। তিনি তাঁর হৃদয়ের সবচাইতে দামী কথাটি বলতে চাইছেন কেবল আমাদের মঙ্গলের জন্য।

ধর্মের পথ অনেক সময় কঠিন ও শুষ্ক মনে হতে পারে, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ এখানে ধর্মের পেছনে থাকা প্রেমের রসটি তুলে ধরেছেন। তিনি কেন অর্জুনকে বারবার বোঝাচ্ছেন? কারণ তিনি চান না তাঁর প্রিয় বন্ধু এই মায়ার সংসারে কষ্ট পাক। এই শ্লোকটি ভক্ত ও ভগবানের মধ্যকার গভীর আত্মিক সম্পর্কের প্রমাণ। যখন আমরা ভগবানকে প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করি, তখন তিনি নিজেই আমাদের উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসেন। এই হিতকর বাণীটিই হলো পরবর্তী শ্লোক, যা গীতার প্রাণ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ঈশ্বর ও জীবের সম্পর্ক প্রেমের। পরমেশ্বর কেবল পথপ্রদর্শক নন, তিনি পরম বন্ধু। তাঁর প্রতিটি উপদেশ কেবল আমাদের কল্যাণের জন্যই।