॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৬৭ ॥

ইদং তে নাতপস্কায় নাভক্তায় কদাচন ।
ন চাশুশ্রূষবে বাচ্যং ন চ মাং যোঽভ্যসূয়তি ॥ ৬৭ ॥

সরল ভাবার্থ

এই গুহ্য জ্ঞান তুমি কখনো এমন কাউকে বলবে না যার কোনো তপস্যা নেই, যে আমার ভক্ত নয়, যার সেবা করার ইচ্ছা নেই এবং যে আমাকে ঈর্ষা করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে গীতার জ্ঞান প্রচারের একটি গাইডলাইন বা ফিল্টার দিয়েছেন। কোনো অমূল্য রত্ন যেমন মূল্যহীন জায়গায় রাখা হয় না, তেমনি এই পরম জ্ঞানও অযোগ্য পাত্রে দেওয়া উচিত নয়। শ্রীকৃষ্ণ চারটি গুণের কথা বলেছেন যা না থাকলে মানুষ গীতার মহিমা বুঝতে পারবে না।

প্রথমত—'অ-তপস্কায়'। যার জীবনে কোনো সংযম বা নিয়ম নেই, সে এই গভীর সত্য ধারণ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত—'অ-ভক্তায়'। ভক্তি ছাড়া এই জ্ঞান কেবল একটি শুষ্ক তথ্য হিসেবে মনে হবে। তৃতীয়ত—'অ-শুশ্রূষবে'। যার শিখার বা সেবা করার আগ্রহ নেই, সে কেবল তর্কের খাতিরে গীতা পড়বে। আর চতুর্থত এবং সবচাইতে বিপজ্জনক হলো—'অসূয়া' বা ঈর্ষা। যারা ভগবানের অস্তিত্ব বা তাঁর লীলানিকে ঘৃণা বা অবজ্ঞা করে, তাদের কাছে এই জ্ঞান বিনিময় করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

এই শ্লোকটির উদ্দেশ্য কাউকে বঞ্চিত করা নয়, বরং জ্ঞানের পবিত্রতা রক্ষা করা। যে ব্যক্তি খেতে চায় না, তাকে জোর করে খাওয়ালে যেমন হজম হয় না, তেমনি যে আধ্যাত্মিক পথের পথিক নয়, তাকে এই কথাগুলো বললে সে কেবল বিদ্রূপই করবে। এতে তাঁর নিজেরই ক্ষতি হবে। একজন প্রচারকের দায়িত্ব হলো আগে উপযুক্ত শ্রোতা তৈরি করা অথবা উপযুক্ত শ্রোতাকেই এই অমৃত দান করা। এটি হলো শ্রদ্ধার একটি বিজ্ঞান। শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো জ্ঞানই হৃদয়ে প্রোথিত হয় না।
তাত্ত্বিক গভীরতা: পাত্রের শুদ্ধতা ছাড়া জ্ঞানের জ্যোতি প্রকাশিত হয় না। শ্রদ্ধা এবং বিনয়ই হলো ঈশ্বরকে জানার প্রবেশদ্বার। অবিশ্বাসী ও ঈর্ষাপরায়ণদের জন্য এই পথ রুদ্ধ।