॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৭৪ ॥

সঞ্জয় উবাচ ।
ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ ।
সংবাদমিমমশ্রৌষমধভুতং রোমহর্ষণম্ ॥ ৭৪ ॥

সরল ভাবার্থ

সঞ্জয় বললেন—এইভাবে আমি বাসুদেব এবং মহাত্মা অর্জুনের সেই অদ্ভুত ও রোমহর্ষক কথোপকথন শ্রবণ করলাম।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এতক্ষণ আমরা শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের সংবাদ শুনছিলাম, এখন ক্যামেরা ফিরে গেল ধৃতরাষ্ট্রের প্রাসাদে সঞ্জয়ের কাছে। সঞ্জয় তাঁর দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমে সরাসরি কুরুক্ষেত্রের ময়দান দেখছিলেন এবং শুনছিলেন। এই শ্লোকে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তিনি এই সংবাদকে 'অদ্ভুতম্' বা বিস্ময়কর এবং 'রোমহর্ষণম্' অর্থাৎ যা শরীরে রোমাঞ্চ জাগিয়ে তোলে এমন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কেন এই সংবাদ এত অদ্ভুত? কারণ এটি সাধারণ কোনো যুদ্ধ বা রাজনীতির আলোচনা ছিল না। এটি ছিল জীবনের পরম দর্শন, আত্মার মুক্তি এবং ভগবানের নিজের মুখের বাণী। বাসুদেব (ঈশ্বর) এবং মহাত্মা অর্জুনের (জীবাত্মা) এই মিলন যে কোনো মানুষের চেতনাকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সঞ্জয় নিজেকে অত্যন্ত ধন্য মনে করছেন। কারণ তিনি কেবল যুদ্ধের খবর দিচ্ছিলেন না, তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শ্রেষ্ঠ সত্যের সাক্ষী হচ্ছিলেন। 'মহাত্মনঃ'—শব্দটি দিয়ে সঞ্জয় অর্জুনকেও সম্মান দিয়েছেন, কারণ অর্জুন এখন সাধারণ কোনো মোহগ্রস্ত ব্যক্তি নন, তিনি ভগবানের কৃপায় মহাত্মায় পরিণত হয়েছেন। সঞ্জয়ের এই রোমাঞ্চ প্রমাণ করে যে, গীতার জ্ঞান কেবল তাত্ত্বিক নয়, এটি হৃদয়ে এক দিব্য স্পন্দন তৈরি করে। আমরা যখন গীতা শুনি বা পড়ি, তখন আমাদেরও যদি এমন রোমাঞ্চ হয়, তবে বুঝতে হবে সেই দিব্যবাণী আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। এটি হলো পরমানন্দের একটি লক্ষণ।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভগবৎ-তত্ত্বের আলোচনা যখন হৃদয়ে প্রবেশ করে, তখন বাহ্যিক শরীরও তাঁর আনন্দ প্রকাশ করে। দিব্য সংবাদের শ্রবণই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।