॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৭৫ ॥

ব্যাসপ্রসাদাৎশ্রুতবানেতদ্গুহ্যমহং পরম্ ।
যোগং যোগেশ্বরাত্ কৃষ্ণাৎসাক্ষাত্ কথয়তঃ স্বয়ম্ ॥ ৭৫ ॥

সরল ভাবার্থ

ব্যাসদেবের কৃপায় আমি এই পরম গোপনীয় যোগতত্ত্ব স্বয়ং যোগেশ্বর কৃষ্ণের শ্রীমুখ হতে সাক্ষাৎভাবে বলতে শুনলাম।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

সঞ্জয় এখানে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছেন যে, তিনি এই দুর্লভ সুযোগ পেয়েছেন মহর্ষি বেদব্যাসের কৃপায়। 'ব্যাসপ্রসাদাৎ'—ব্যাসদেবই সঞ্জয়কে দিব্যচক্ষু দান করেছিলেন, যা দিয়ে তিনি দূর থেকেও সবকিছু শুনতে ও দেখতে পারতেন। আধ্যাত্মিক জীবনে গুরুর গুরুত্ব অপরিসীম। গুরুর সাহায্য ছাড়া ভগবানের তত্ত্ব বোঝা অসম্ভব।

এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণকে 'যোগেশ্বর' বলা হয়েছে। যোগেশ্বর মানে হলো সমস্ত যোগশক্তির অধিপতি। সঞ্জয় রোমাঞ্চিত যে তিনি কোনো সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন না, তিনি শুনছেন স্বয়ং ঈশ্বরের বাণী। ভগবান এখানে 'স্বয়ং কথয়তঃ'—অর্থাৎ নিজেই কথা বলছেন। সাধারণত শাস্ত্রের জ্ঞান অন্যের মাধ্যমে পাওয়া যায়, কিন্তু গীতা হলো স্বয়ং ভগবানের শ্রীমুখের কথা।

সঞ্জয় বলছেন—'সাক্ষাৎ'। অর্থাৎ তিনি মায়ার কোনো আবরণে নয়, বরং সরাসরি সেই পরম সত্যের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভের জন্য উপযুক্ত কৃপা ও মাধ্যমের প্রয়োজন। ব্যাসদেব এই কৃপা করেছিলেন বলেই আজ আমরা গীতা আমাদের হাতে পাচ্ছি। সঞ্জয়ের মতো আমাদেরও উচিত গুরুর প্রতি এবং ভগবানের এই অসাধারণ উপহারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। এই 'গুহ্যতম' জ্ঞান যা ঋষি-মুনিরা বছরের পর বছর তপস্যা করেও পান না, তা শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের মাধ্যমে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন।
তাত্ত্বিক গভীরতা: শ্রীকৃষ্ণ হলেন যোগের চূড়ান্ত উৎস। গুরুর কৃপায় যখন আমাদের দিব্যদৃষ্টি খুলে যায়, তখনই আমরা ঈশ্বরের বাণী সরাসরি শুনতে পাই।