॥ অধ্যায় ১৮, শ্লোক ৭৬ ॥

রাজন্ সংস্কৃত্য সংস্কৃত্য সংবাদমিমমভুতম্ ।
কেশবাজুর্নয়োঃ পুণ্যং হৃষ্যামি চ মুহুর্মুহুঃ ॥ ৭৬ ॥

সরল ভাবার্থ

হে রাজন! শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুনের সেই পবিত্র ও অদ্ভুত সংবাদ বারবার স্মরণ করে আমি প্রতি মুহূর্তে আনন্দিত হচ্ছি।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

সঞ্জয় এখানে ধৃতরাষ্ট্রকে 'রাজন' বলে সম্বোধন করছেন, কিন্তু তাঁর নিজের মন কুরুক্ষেত্রের পবিত্র বাণীতে ডুবে আছে। তিনি বলছেন—'সংস্কৃত্যা সংস্কৃত্য' অর্থাৎ বারবার স্মরণ করে। আধ্যাত্মিক আনন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এটি পুরনো হয় না। জাগতিক আমোদ একবার হলে ফুরিয়ে যায়, কিন্তু ভগবানের কথা যতবার মনে করা হয়, তা ততবার নতুন মাধুর্য নিয়ে আসে।

এই সংবাদকে তিনি 'পুণ্যম্' বলছেন। এর অর্থ হলো এটি কেবল বুদ্ধির খোরাক নয়, এটি আত্মাকে পবিত্র করে। কেশব (কৃষ্ণ) এবং অর্জুনের এই কথোপকথন পরম সত্যের আধার। সঞ্জয় বলছেন যে, তিনি 'মুহুর্মুহুঃ' বা বারবার হর্ষিত হচ্ছেন। এটিই হলো প্রকৃত সাধকের অবস্থা। যখন কোনো মানুষ ঈশ্বরের তত্ত্ব হৃদয়ে ধারণ করে, তখন সে এক নিরবচ্ছিন্ন আনন্দের (Extasy) রাজ্যে বাস করে।

এই শ্লোকটি আমাদের জন্য এক সংকেত। গীতা একবার পড়ে ফেলে রাখার বস্তু নয়। এটিকে বারবার 'সংস্কৃত্যা' বা স্মরণ করতে হয়। প্রতিটি স্মরণে নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় এবং হৃদয়ের বিষাদ দূর হয়। সঞ্জয় যখন ধৃতরাষ্ট্রকে এই কথাগুলো বলছেন, তিনি আসলে ধৃতরাষ্ট্রকেও এই আনন্দে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ধৃতরাষ্ট্র মায়ায় এতটাই অন্ধ ছিলেন যে তাঁর মনে সেই আনন্দের উদয় হয়নি। তবে সঞ্জয় তাঁর নিজের আনন্দ ধরে রাখতে পারছেন না—এটিই ভক্তির শক্তি।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ভগবানের কথা স্মৃতিতে আনাও এক বড় সাধনা। বারবার অনুধাবন করলে বাণীর গভীরতা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং অনাবিল আনন্দ প্রদান করে।