॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ১৪ ॥

মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ ।
আগমাপায়িনোঽনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত ॥ ১৪ ॥

সরল ভাবার্থ: হে কৌন্তেয়, ইন্দ্রিয়ের স্পর্শ থেকেই শীত ও উষ্ণ, সুখ ও দুঃখের অনুভূতি জন্মায়। এগুলো আসে আবার চলে যায়, স্থায়ী নয়। তাই হে ভারত, এগুলো সহ্য করো।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানবজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সরাসরি তুলে ধরেছেন। তিনি দুঃখ বা কষ্টকে অস্বীকার করছেন না, বরং তার প্রকৃতি বোঝাচ্ছেন। সুখ ও দুঃখ আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত হয়, তাই এগুলো আত্মার গুণ নয়। আত্মা স্থির ও অপরিবর্তনীয়, কিন্তু ইন্দ্রিয় বাহ্যিক পরিস্থিতির সাথে পরিবর্তিত হয়। এই পার্থক্য না বোঝার কারণেই মানুষ দুঃখে ভেঙে পড়ে।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে “আগমাপায়িনঃ” শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ—যা আসে এবং চলে যায়। জীবনের সব সুখ-দুঃখই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু আমরা সেগুলোকে স্থায়ী ভেবে ভয় পাই বা আসক্ত হই। গীতা শেখায়—সহনশীলতা আত্মিক শক্তির পরিচয়। যে ব্যক্তি দুঃখে সংযম হারায় না, সে ধীরে ধীরে আত্মজ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।

আধুনিক জীবনের প্রেক্ষাপটেও এই শ্লোক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মানসিক চাপ, সমালোচনা, ব্যর্থতা— সবই ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতি। এগুলোকে সহ্য করতে শেখাই গীতার শিক্ষা। এই সহিষ্ণুতাই মানুষকে অন্তর থেকে শক্তিশালী করে।
[ছবি: গ্রীষ্ম ও শীত, সুখ ও দুঃখের প্রতীকী দৃশ্য।]