॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ১৫ ॥

যং হি ন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ ।
সমদুঃখসুখং ধীরং সোহমৃতত্বায় কল্পতে ॥ ১৫ ॥

সরল ভাবার্থ: যাকে সুখ ও দুঃখ বিচলিত করতে পারে না, যে উভয় অবস্থায় সমান থাকে, সেই ধৈর্যশীল মানুষ অমৃতত্বের যোগ্য হয়।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি গীতার আদর্শ মানবচরিত্র নির্ধারণ করে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন— প্রকৃত ধীর ব্যক্তি সে-ই, যে সুখে উচ্ছ্বসিত হয় না, আবার দুঃখে ভেঙে পড়ে না। এই সমত্ববুদ্ধিই আত্মিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি। এখানে অমৃতত্ব বলতে কেবল শারীরিক অমরত্ব নয়, বরং আত্মিক স্থায়িত্ব বোঝানো হয়েছে।

মানুষ সাধারণত সুখকে আঁকড়ে ধরতে চায় এবং দুঃখ থেকে পালাতে চায়। কিন্তু গীতা শেখায়— এই দুইয়ের মধ্যেই আসক্তি মানুষের বন্ধনের কারণ। যে ব্যক্তি সুখ ও দুঃখকে সমান চোখে দেখতে শেখে, সে জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। তার মন পরিস্থিতির দাস হয়ে থাকে না।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— পরিস্থিতি আমাদের চরিত্র গঠন করে না, বরং পরিস্থিতির প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়াই আমাদের আত্মিক অবস্থান নির্ধারণ করে। যে ব্যক্তি সমত্ব অর্জন করে, সে ধীরে ধীরে মুক্তির পথে অগ্রসর হয়।


Image description
[ছবি: শান্ত ও স্থির চেতনার প্রতীকী যোগী।]