॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ১৬ ॥

নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ ।
উভয়োরপি দৃষ্টোঽন্তস্ত্বনয়োস্তত্ত্বদর্শিভিঃ ॥ ১৬ ॥

সরল ভাবার্থ: অসতের কোনো অস্তিত্ব নেই, আর সতের কোনো অভাব নেই। এই সত্য তত্ত্বদর্শীরা উপলব্ধি করেন।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি গীতার অন্যতম দার্শনিক শ্লোক। এখানে ‘সৎ’ ও ‘অসৎ’-এর পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। সৎ মানে যা চিরন্তন—আত্মা। অসৎ মানে যা ক্ষণস্থায়ী—দেহ ও জড় জগৎ। দেহ পরিবর্তনশীল, তাই তার স্থায়ী অস্তিত্ব নেই। কিন্তু আত্মা অপরিবর্তনীয়, তাই তার কখনো অভাব হয় না।

মানুষ যখন জড় বস্তুকে স্থায়ী মনে করে, তখনই সে দুঃখে পড়ে। গীতা এখানে বাস্তবতার প্রকৃত সংজ্ঞা দিচ্ছে। যা পরিবর্তিত হয়, তা চূড়ান্ত সত্য নয়। আর যা অপরিবর্তনীয়, সেটাই প্রকৃত সত্য। এই উপলব্ধি না থাকলে মানুষ জীবনকে ভুলভাবে বিচার করে।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— জীবনের সমস্যাগুলো স্থায়ী নয়, কারণ সেগুলো অসতের অংশ। কিন্তু আত্মিক সত্য স্থায়ী। এই জ্ঞান মানুষকে ভয়মুক্ত করে এবং বাস্তবতাকে সঠিকভাবে দেখতে শেখায়।
[ছবি: আলো ও অন্ধকারের প্রতীকী রূপ, সৎ ও অসতের পার্থক্য।]