॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ১৭ ॥

অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্ ।
বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিত্কর্তুমর্হতি ॥ ১৭ ॥

সরল ভাবার্থ: যেটি দ্বারা এই সমস্ত জগৎ পরিব্যাপ্ত, সেই আত্মাকে অবিনাশী জেনে নাও। তার বিনাশ কেউ করতে পারে না।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ আত্মার সর্বব্যাপী ও অবিনাশী স্বরূপ ঘোষণা করছেন। আত্মা কেবল দেহের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চেতনা সর্বত্র বিস্তৃত। দেহ নষ্ট হতে পারে, কিন্তু আত্মার কোনো ক্ষয় নেই। এই সত্য উপলব্ধি করলেই মৃত্যুভয় দূর হয়।

মানুষ দেহের ক্ষয়কে নিজের ধ্বংস মনে করে, কারণ সে আত্মাকে চেনে না। গীতা এই অজ্ঞানতা দূর করতে চায়। আত্মা এমন এক সত্য, যাকে অস্ত্র, আগুন বা সময়— কিছুই নষ্ট করতে পারে না। এই উপলব্ধি মানুষকে অন্তর থেকে নির্ভীক করে তোলে।

এই শ্লোকের শিক্ষা হলো— জীবনের সব পরিবর্তনের মাঝেও একটি অপরিবর্তনীয় সত্য আছে। সেই সত্যকে জানা মানেই আত্মজ্ঞান। এই জ্ঞান অর্জন করলে মানুষ দুঃখ, ভয় ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
[ছবি: সর্বব্যাপী আলোর মধ্যে আত্মার প্রতীকী রূপ।]