॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ১৮ ॥

অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিণঃ ।
অনাশিনোঽপ্রমেয়স্য তস্মাদ্যুদ্ধ্যস্ব ভারত ॥ ১৮ ॥

সরল ভাবার্থ: এই দেহগুলো নশ্বর বলা হয়েছে, কিন্তু দেহের অধিকারী আত্মা চিরন্তন, অবিনাশী ও অপ্রমেয়। তাই হে ভারত, যুদ্ধ করো।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ দেহ ও আত্মার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিচ্ছেন। দেহের একটি শুরু আছে এবং একটি শেষ আছে। জন্ম মানেই মৃত্যু নিশ্চিত। কিন্তু আত্মার কোনো শুরু বা শেষ নেই। আত্মা কখনো জন্মায় না, কখনো নষ্টও হয় না। মানুষ যখন দেহকেই নিজের পরিচয় মনে করে, তখন সে মৃত্যুকে ভয় পায় এবং শোকগ্রস্ত হয়। কিন্তু আত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি এই ভয়কে দূর করে।

গীতা এখানে অত্যন্ত বাস্তব একটি সত্য প্রকাশ করছে— আমরা প্রতিদিনই দেহের পরিবর্তন দেখছি, অথচ আত্মার পরিবর্তন দেখতে পাই না। তাই মানুষ দেহকে বাস্তব মনে করে, আত্মাকে কল্পনা বলে ধরে নেয়। এই ভ্রান্ত ধারণাই জীবনের মূল সংকট। শ্রীকৃষ্ণ এই শ্লোকে অর্জুনকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন— যুদ্ধ মানে আত্মহত্যা নয়, যুদ্ধ মানে দেহের কর্ম, আত্মা তাতে অক্ষত থাকে।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— দায়িত্ব পালনের সময় আবেগের বশবর্তী হওয়া উচিত নয়। যখন কর্তব্য স্পষ্ট, তখন আত্মিক সত্যকে স্মরণ করেই কর্ম করতে হয়। এই উপলব্ধিই কর্মযোগের ভিত্তি।


Image description
[ছবি: নশ্বর দেহ ও চিরন্তন আত্মার প্রতীকী চিত্র।]