॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ২ ॥

শ্রীভগবানুবাচ ।
কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্ ।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন ॥ ২ ॥

সরল ভাবার্থ

শ্রীভগবান বললেন—হে অর্জুন! এই সঙ্কটময় সময়ে তোমার মনে এমন মোহের উদয় হলো কেন? আর্য বা শ্রেষ্ঠ মানুষদের পক্ষে এটি অযোগ্য, এটি স্বর্গ লাভের অন্তরায় এবং অগৌরবজনক।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতায় ভগবানের প্রথম বাণী। তিনি অর্জুনকে সান্ত্বনা না দিয়ে উল্টে তিরস্কার করছেন। তিনি প্রশ্ন করছেন 'কুতস্ত্বা'—কোথা থেকে তোমার এই 'কশ্মলং' বা কলুষতা এল? শ্রীকৃষ্ণ জানেন যে অর্জুনকে দুর্বলতা থেকে বের করতে হলে তাঁকে কঠোর হতে হবে। তিনি তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছেন: ১. অনার্যজুষ্টম্ (অসভ্য বা জ্ঞানহীন মানুষের আচরণ), ২. অস্বর্গ্যম্ (যা পারলৌকিক উন্নতির পরিপন্থী), এবং ৩. অকীর্তিকরম্ (যা বীরের জন্য লজ্জাজনক)।

একজন আর্য বা শ্রেষ্ঠ মানুষ কখনো বিপদে ধৈর্য হারান না। অর্জুন যে পাণ্ডিত্যের কথা বলছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ তাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বললেন যে এটি আসলে তাঁর মনের কলুষতা। ধর্মযুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ত্যাগ করা দয়া নয়, বরং কাপুরুষতা। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত তাঁকে ভবিষ্যতে কোনো ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে না; বরং লোকে তাঁকে ভীরু বলবে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে সত্যের পথে চলতে গেলে অনেক সময় মায়াকে অতিক্রম করতে হয়। যে আবেগ আমাদের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করে, তা যতই মধুর মনে হোক না কেন, তা আসলে অধর্ম। ভগবান এখানে আমাদের অন্তরের বিবেক হয়ে কথা বলছেন। যখনই আমরা সঠিক কাজ করতে ভয় পাই, ভগবান আমাদের মনে করিয়ে দেন যে এই দুর্বলতা আমাদের স্বভাবের সাথে মানায় না। এটি আধ্যাত্মিক যুদ্ধের প্রথম আঘাত যা আমাদের অলসতা ও মোহকে গুঁড়িয়ে দেয়।