সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! ক্লৈব্য বা কাপুরুষতা অবলম্বন করো না, এটি তোমার উপযুক্ত নয়। হে পরন্তপ! হৃদয়ের এই তুচ্ছ দুর্বলতা পরিত্যাগ করে যুদ্ধের জন্য উঠে দাঁড়াও।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি গীতার অন্যতম তেজস্বী শ্লোক। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন 'ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ'—অর্থাৎ নপুংসকতা বা কাপুরুষতার পরিচয় দিও না। এখানে ক্লৈব্য বলতে কেবল শারীরিক অক্ষমতা নয়, বরং মানসিকভাবে ভেঙে পড়াকে বোঝানো হয়েছে। অর্জুন কুন্তীপুত্র (পার্থ), যার ধমনীতে বীরের রক্ত বহমান। শ্রীকৃষ্ণ তাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে এমন দুর্বলতা তাঁর ঐতিহ্যের সাথে মানায় না।
ভগবান অর্জুনকে 'পরন্তপ' বলে ডেকেছেন, যার অর্থ হলো—যিনি শত্রুকে দহন করেন। এটি একটি ব্যাঙ্গাত্মক ডাকও হতে পারে; কৃষ্ণ বলতে চাইছেন যে, তুমি যে আজ বাহ্যিক শত্রুকে মারতে ভয় পাচ্ছ, তার আগে তোমার ভেতরের 'হৃদয়দৌর্বল্যং' বা মনের তুচ্ছ দুর্বলতাকে পুড়িয়ে ফেলো। আমাদের জীবনের বড় যুদ্ধগুলো বাইরের চেয়ে আমাদের মনের ভেতরেই বেশি হয়। এই শ্লোকটি স্বামী বিবেকানন্দের অত্যন্ত প্রিয় ছিল, কারণ এটি মানুষের ভেতরের অমিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো শক্তির উপাসনা। অধর্মের বিনাশ করার জন্য যখন শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন করুণার দোহাই দিয়ে সরে থাকা আসলে ভীরুতা। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে দয়া এবং দুর্বলতা এক নয়। দয়া আসে সামর্থ্য থেকে, আর এই মুহূর্তে অর্জুন যা করছেন তা আসছে দুর্বলতা থেকে। এটি আমাদের শেখায় যে জীবনের যেকোনো বড় লক্ষে পৌঁছাতে হলে সবার আগে মনের দুর্বলতাকে ত্যাগ করে 'উত্তিষ্ঠ' বা জেগে উঠতে হয়।