॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ২১ ॥

বেদাবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম্ ।
কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্ ॥ ২১ ॥

সরল ভাবার্থ: হে পার্থ, যে ব্যক্তি আত্মাকে অবিনাশী, নিত্য, জন্মহীন ও অব্যয় বলে জানে, সে কাকে হত্যা করবে, অথবা কাকে হত্যা করাবে?

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি পূর্ববর্তী আত্মতত্ত্বের একটি যৌক্তিক ফলাফল। শ্রীকৃষ্ণ এখানে প্রশ্নের মাধ্যমে অর্জুনকে ভাবতে বাধ্য করছেন। যদি আত্মা সত্যিই অবিনাশী হয়, যদি আত্মার কোনো জন্ম বা মৃত্যু না থাকে, তাহলে হত্যার ধারণাটিই অর্থহীন হয়ে পড়ে। কারণ হত্যা দেহের স্তরে ঘটে, আত্মার স্তরে নয়। এই যুক্তি অর্জুনের মানসিক দ্বন্দ্বকে ভাঙার জন্যই উপস্থাপন করা হয়েছে।

মানুষ সাধারণত নিজের কর্মকে আত্মার উপর চাপিয়ে দেয়। “আমি মেরে ফেললাম”—এই ধারণা আত্মিক দৃষ্টিতে অসম্পূর্ণ। গীতা বলছে— আত্মা কেবল কর্মের সাক্ষী, কর্মের কর্তা দেহ ও ইন্দ্রিয়। এই পার্থক্য না বোঝার কারণেই মানুষ অপরাধবোধ ও ভয়ের মধ্যে বাস করে। শ্রীকৃষ্ণ এখানে সেই ভুল ধারণা ভাঙছেন।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— আত্মজ্ঞান কখনো দায়িত্বহীনতা শেখায় না। বরং এটি কর্মকে ভয়মুক্ত করে। যে ব্যক্তি আত্মার অবিনাশী স্বরূপ উপলব্ধি করে, সে কর্তব্য পালন করে নির্ভীকভাবে, কিন্তু অহংকার বা আসক্তি ছাড়া। এটাই গীতার কর্মযোগের মূল শিক্ষা।
[ছবি: আত্মার অবিনাশীত্ব বোঝাতে আলো ও দেহের প্রতীকী চিত্র।]