॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ২৫ ॥

অব্যক্তোঽয়মচিন্ত্যোঽয়মবিকার্যোঽয়মুচ্যতে ।
তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি ॥ ২৫ ॥

সরল ভাবার্থ: আত্মা অব্যক্ত, অচিন্ত্য ও অপরিবর্তনীয়। তাই এই সত্য জেনে তোমার শোক করা উচিত নয়।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও গভীর ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি আত্মতত্ত্বের একটি গভীর স্তরে নিয়ে যায়। আত্মা ইন্দ্রিয়ের দ্বারা ধরা যায় না, বুদ্ধির দ্বারা পুরোপুরি চিন্তাও করা যায় না। তাই আত্মাকে অব্যক্ত ও অচিন্ত্য বলা হয়েছে। মানুষ যেহেতু ইন্দ্রিয়নির্ভর, তাই আত্মাকে উপলব্ধি করতে তার কষ্ট হয়।

আত্মা অবিকার্য— অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন তাকে স্পর্শ করে না। এই উপলব্ধি থাকলে শোকের কোনো ভিত্তি থাকে না। শ্রীকৃষ্ণ তাই অর্জুনকে বলছেন— এই সত্য জেনে শোক করা অযৌক্তিক।

এই শ্লোক আমাদের শেখায়— সবকিছু বোঝা যায় না, কিন্তু সবকিছু জানা যায়। আত্মজ্ঞান মানে যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে উপলব্ধির জগতে প্রবেশ করা। এই উপলব্ধিই মানুষকে শান্ত করে।
[ছবি: ধ্যানমগ্ন চেতনার মাঝে অব্যক্ত আত্মার প্রতীক।]