॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ২৯ ॥

আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেনমাশ্চর্যবদ্বদতি তথৈব চান্যঃ ।
আশ্চর্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি শ্ৰুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ ॥ ২৯ ॥

সরল ভাবার্থ

কেউ এই আত্মাকে আশ্চর্যভাবে দেখেন, কেউ আশ্চর্যভাবে বর্ণনা করেন এবং কেউ আশ্চর্যভাবে শ্রবণ করেন। আবার কেউ শুনেও এই আত্মাকে বুঝতে পারেন না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

আত্মা বা পরম সত্তা এতই রহস্যময় যে শ্রীকৃষ্ণ এখানে চারবার 'আশ্চর্য' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি অর্জুনকে বলছেন যে, তুমি যে আত্মার কথা শুনে ঘাবড়ে যাচ্ছো, তা স্বাভাবিক। কারণ যারা সারা জীবন ধ্যান করেন, তারাও আত্মাকে দেখে অবাক হয়ে যান। এটি সাধারণ বুদ্ধির অগম্য। কেউ এই আত্মাকে এক পরম জ্যোতি হিসেবে দেখে বিস্মিত হন। কেউ এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেন। আবার কেউ এই রহস্য শুনে মুগ্ধ হন। কিন্তু সবচেয়ে বড় আশ্চর্য হলো, অনেকে শাস্ত্র পড়ে এবং মহাপুরুষদের বাণী শুনেও এর গভীরতা স্পর্শ করতে পারেন না।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আধ্যাত্মিক সাধনার কঠিন পথের ইঙ্গিত দেয়। আত্মা হলো সেই পরম সত্য যা বাক্য ও মনের অতীত। আমরা সাধারণত ইন্দ্রিয় দিয়ে যা দেখি তাকেই সত্য মনে করি, কিন্তু আত্মা ইন্দ্রিয়ের অতীত। অর্জুন এখানে মায়ার অন্ধকারে আছেন বলে আত্মার এই 'আশ্চর্য' রূপটি দেখতে পাচ্ছেন না। শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছেন এই বলে যে, এটি না বোঝা তোমার একার ব্যর্থতা নয়; এটি জগতের সবচেয়ে বড় রহস্য।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আত্মজ্ঞান কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি অনুভবের বিষয়। অর্জুন যে সংশয়ে আছেন, তা দূর করার একমাত্র পথ হলো গুরুর চরণে আত্মসমর্পণ এবং শুদ্ধ মন নিয়ে সত্য শ্রবণ করা। আমরা যখন ভগবানকে জানার চেষ্টা করি, তখন অনেক সময় আমরা হতাশ হই। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, এই বিস্ময়ই হলো শুরু। একে জানার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং একাগ্রতা। অর্জুনকে এই আধ্যাত্মিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য মানসিক শক্তি জোগাচ্ছেন ভগবান।
[ছবি: একজন ঋষি ধ্যানে মগ্ন এবং তাঁর হৃদয়ে একটি জ্যোতি উজ্জ্বলভাবে জ্বলছে যা অসীম বিশ্বের সাথে যুক্ত।]