সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! অযাচিতভাবে উপস্থিত এই যুদ্ধ স্বর্গের উন্মুক্ত দ্বারের মতো; সৌভাগ্যবান ক্ষত্রিয়েরাই কেবল এ প্রকার যুদ্ধের সুযোগ লাভ করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে যুদ্ধকে একটি আপদ বা বিপদ হিসেবে না দেখে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, অর্জুনকে এই যুদ্ধের জন্য কোনো ষড়যন্ত্র করতে হয়নি; এটি তাঁর জীবনে 'যদৃচ্ছয়া' বা প্রারব্ধ কর্ম অনুযায়ী আপনি থেকেই উপস্থিত হয়েছে। এটি যেন স্বর্গের খোলা দরজা। হিন্দু পুরাণ ও ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, যদি কোনো যোদ্ধা ন্যায়ের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ ত্যাগ করেন, তবে তিনি সরাসরি 'বীরগতি' প্রাপ্ত হন এবং স্বর্গে উচ্চ স্থান লাভ করেন।
এই শ্লোকটি অর্জুনের মনোবল বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য পুণ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু একজন বীরের জন্য এই যুদ্ধক্ষেত্রই হলো তাঁর তপোবন। এখানে লড়াই করা মানেই হলো পরমেশ্বরের পথে হাঁটা। 'সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ'—বলতে ভগবান সেই সব যোদ্ধাদের বুঝিয়েছেন যারা কর্তব্যের ডাকে সাড়া দিতে ভয় পান না। অর্জুনকে এখানে 'পার্থ' বলে সম্বোধন করা হয়েছে, যা তাঁর বীর জননী কুন্তীর (পৃথা) কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, আমাদের জীবনে যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা দ্বন্দ্ব আসে, তাকে ভয় না পেয়ে ঈশ্বরের দেওয়া আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ সংগ্রামের মাধ্যমেই মানুষের চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে। অর্জুনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই যুদ্ধ কেবল কুরুক্ষেত্রের লড়াই নয়, এটি হলো সত্য ও মিথ্যার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা অর্জুনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়, কারণ স্বয়ং পরমেশ্বর তাঁর রথের সারথি হয়ে তাঁকে পথ দেখাচ্ছেন।
[ছবি: অর্জুনের সামনে আকাশের দিকে বিস্তৃত এক জ্যোতির্ময় পথ বা স্বর্গের উন্মুক্ত দ্বার যা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়।]