সরল ভাবার্থ
কিন্তু তুমি যদি এই ধর্মীয় যুদ্ধ না করো, তবে তোমার স্বধর্ম ও যশ হারাবে এবং পাপের ভাগী হবে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এতক্ষণ পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধের ইতিবাচক দিকগুলো বলছিলেন। এখন তিনি না করার ভয়াবহ পরিণতির কথা বলছেন। ভগবান এখানে সতর্কবাণী দিচ্ছেন যে, অর্জুন যদি তাঁর মায়াময় দয়া ও মোহের বশবর্তী হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে যান, তবে জগত তাঁকে একজন 'দয়ালু' মানুষ হিসেবে মনে রাখবে না, বরং একজন 'পলাতক' ও 'ভীতু' হিসেবে মনে রাখবে। এতে তাঁর অর্জিত সব যশ ও কীর্তি ধূলোয় মিশে যাবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো 'পাপমবাপ্স্যসি'—অর্থাৎ তিনি পাপের ভাগী হবেন। সাধারণ মানুষ মনে করে হত্যা করা পাপ। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, একজন সৈনিকের জন্য কর্তব্যে অবহেলা করা সবচেয়ে বড় পাপ। যদি অর্জুন আজ যুদ্ধ না করেন, তবে কৌরবদের অন্যায় শাসন চিরস্থায়ী হবে এবং সমাজ আরও কলুষিত হবে। এই অন্যায়ের সহযোগী হওয়ার কারণে অর্জুন পাপে লিপ্ত হবেন। স্বধর্ম ত্যাগ করা মানে হলো পরমেশ্বরের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করা।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, জীবন অনেক সময় আমাদের এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয় যেখানে কোনো কাজ না করাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। অর্জুনের এই যুদ্ধ না করাটা তাঁর ব্যক্তিগত অহিংসা নয়, এটি আসলে তাঁর দায়িত্ব থেকে পলায়ন। শ্রীকৃষ্ণ এখানে অত্যন্ত কঠোরভাবে অর্জুনের সেই ভ্রান্ত ধারণাকে আঘাত করেছেন যেখানে অর্জুন মনে করেছিলেন যে যুদ্ধ ছেড়ে দিলে তিনি পুণ্য অর্জন করবেন। ভগবান পরিষ্কার করে দিলেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই না করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কেবল কাপুরুষতা নয়, তা পারমার্থিক বিচারেও দণ্ডনীয়।
[ছবি: অর্জুন মাথা নিচু করে ভাবছেন এবং তাঁর পেছনে তাঁর পূর্বপুরুষদের কীর্তির ধূলিসাৎ হওয়ার প্রতীকী ছায়া দেখা যাচ্ছে।]