সরল ভাবার্থ
যদি তুমি যুদ্ধে নিহত হও, তবে স্বর্গ লাভ করবে; আর যদি জয়ী হও, তবে পৃথিবী ভোগ করবে। অতএব, হে কৌন্তেয়! যুদ্ধের জন্য কৃতনিশ্চয় হয়ে গাত্রোত্থান করো।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি হলো শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম 'উইথিন-উইন' বা সর্বজয়ী যুক্তি। তিনি বলছেন, অর্জুন, তোমার হারার কোনো জায়গা নেই। যদি তুমি এই ধর্মযুদ্ধে নিহত হও, তবে শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী তুমি স্বর্গে যাবে। আর যদি তুমি বীরের মতো জয়ী হও, তবে এই সমৃদ্ধ পৃথিবী শাসন করবে। যে পথেই যাও, তোমার মঙ্গল নিশ্চিত। তাই সংশয় ঝেড়ে ফেলে 'কৃতনিশ্চয়' বা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে উঠে দাঁড়াও।
এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে 'কৌন্তেয়' বলে ডেকেছেন, যার অর্থ কুন্তীর পুত্র। এর মাধ্যমে তিনি অর্জুনকে তাঁর মায়ের বীরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। ভগবান বলছেন, জীবন যুদ্ধে কেবল দুটিই ভালো ফল হতে পারে—হয় বিজয় অথবা বীরত্বপূর্ণ ত্যাগের মাধ্যমে উচ্চগতি লাভ। অর্জুন যে দুঃখের কথা ভাবছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ তাকে লাভের অঙ্কে পরিণত করলেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'ক্ষত্রিয় ধর্ম'-এর সারকথা। যখন মানুষ সঠিক পথের জন্য লড়াই করে, তখন তার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি মৃত্যুও তার জন্য উন্নতির দ্বার খুলে দেয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে নিষ্ক্রিয়তা থেকে সক্রিয়তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। 'তস্মাদুত্তিষ্ঠ'—এই কথাটি আজ প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যখন আমরা জীবনের কোনো কঠিন মোড়ে এসে থমকে যাই, তখন গীতার এই বাণী আমাদের উঠে দাঁড়াতে প্রেরণা দেয়। কোনো কাজে নামার আগে লাভ-ক্ষতির যে ভয় আমাদের গ্রাস করে, শ্রীকৃষ্ণ সেই ভয় দূর করে দিচ্ছেন এই বলে যে, ন্যায়ের পথে থাকলে তুমি কোনোভাবেই হারবে না। জয়ের আনন্দ আর বীরের গৌরব—উভয়ই তোমার হাতের মুঠোয়।
[ছবি: অর্জুন হাতে গাণ্ডীব তুলে নিয়ে রথের ওপর দৃঢ়ভাবে উঠে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁর চোখ আগুনের মতো উজ্জ্বল।]