॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ৪০ ॥

নেহাভিক্রমনাশোঽস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে ।
স্বল্পমপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ ॥ ৪০ ॥

সরল ভাবার্থ

এই কর্মযোগের পথে চেষ্টার কোনো বিনাশ নেই এবং এর কোনো বিপরীত ফলও নেই। এই ধর্মের সামান্য অনুশীলনও মানুষকে মহৎ ভয় (জন্ম-মৃত্যুর ভয়) থেকে রক্ষা করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি হলো শ্রীকৃষ্ণের দেওয়া এক বিশাল গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা। তিনি বলছেন, পার্থিব জগতে আমরা কোনো কাজ মাঝপথে ছেড়ে দিলে তার কোনো সুফল পাই না। কিন্তু কর্মযোগের পথে এক পা বাড়ালেও তা বৃথা যায় না। এখানে 'অভিক্রম-নাশ' বা চেষ্টার বিনাশ নেই। এমনকি যদি কেউ পূর্ণতা লাভ না করেও দেহ ত্যাগ করে, তবুও তাঁর সেই পুণ্য পরবর্তী জন্মে তাঁর সাথে যায়।

ভগবান আরও বলছেন যে, এই পথে কোনো 'প্রত্যবায়' বা বিপরীত ফল নেই। সাধারণ যজ্ঞ বা কঠোর সাধনায় সামান্য ভুল হলে ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরমুখী কর্মে কোনো ভুল নেই। এই ধর্মের 'স্বল্পম্' বা অতি সামান্য অনুশীলনও মানুষকে 'মহতো ভয়াৎ'—অর্থাৎ মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের যে বিশাল ভয়, তা থেকে রক্ষা করতে পারে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বাণী।

ধর্মীয় বিচারে, শ্রীকৃষ্ণ এখানে ভক্তি ও কর্মের এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তিনি মানুষকে নিরাশ হতে নিষেধ করছেন। আমরা অনেক সময় ভাবি যে আমরা অনেক পাপ করেছি বা আমরা আধ্যাত্মিকতায় অনেক পিছিয়ে আছি। কিন্তু ভগবান বলছেন, আজ এই মুহূর্ত থেকে যদি তুমি ফলের আশা ছেড়ে কাজ শুরু করো, তবে সেই সামান্য প্রচেষ্টাই তোমাকে পরম শান্তিতে নিয়ে যাবে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বর কতটা দয়ালু। তিনি কেবল আমাদের প্রচেষ্টাকেই দেখেন, আমরা কতটা সফল হলাম তা দেখেন না। অর্জুনকে এই লড়াই করতে সাহস দিচ্ছেন এই বলে যে, ন্যায়ের পথে তোমার একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপেও ঈশ্বরের আশীর্বাদ আছে। এটি হলো মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার এক অমোঘ মন্ত্র।
[ছবি: একটি ক্ষুদ্র প্রদীপ জ্বলছে যা বিশাল অন্ধকারকে দূর করছে এবং অভয় দান করছে।]