সরল ভাবার্থ
এই মহানুভব গুরুজনদের হত্যা করার চেয়ে ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করাও শ্রেয়। কারণ তাঁদের হত্যা করে যে সম্পদ বা ভোগ আমরা পাব, তা তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে থাকবে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুন এখানে চরম বৈরাগ্যের কথা বলছেন, কিন্তু এটি প্রকৃত বৈরাগ্য নয়, বরং বিভ্রান্তি। তিনি বলছেন যে তিনি রাজপ্রাসাদের সুখ চান না যদি তার জন্য গুরুজনদের রক্ত ঝরাতে হয়। তার চেয়ে তিনি বনের ভিক্ষুক হওয়াকেও ভালো মনে করছেন। অর্জুনের এই যুক্তি অত্যন্ত জোরালো মনে হতে পারে—রক্তমাখা সম্পদ ভোগ করার চেয়ে ত্যাগ করা অনেক মহৎ কাজ। তিনি ভীষ্ম ও দ্রোণকে 'মহানুভাবান্' বলে সম্মান দিচ্ছেন।
কিন্তু অর্জুন একটি ভুল করছেন। তিনি এই যুদ্ধকে কেবল নিজের ভোগের জন্য যুদ্ধ মনে করছেন ('অর্থকামাস্তু')। তিনি ভুলে যাচ্ছেন যে এটি কোনো রাজ্য দখলের লড়াই নয়, এটি হলো অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের লড়াই। যদি পাণ্ডবরা এই যুদ্ধে জয়ী না হন, তবে সারা পৃথিবীতে অধর্ম ছেয়ে যাবে। অর্জুন কেবল নিজের 'পাপের ভয়' নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু পৃথিবীর বৃহত্তর কল্যাণের কথা ভুলে গেছেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'সত্ত্বগুণ'-এর মতো ছদ্মবেশী মোহ। অনেক সময় আমরা কোনো কঠিন কাজ করতে না চাইলে সেটিকে 'দয়া' বা 'ত্যাগ' বলে চালানোর চেষ্টা করি। অর্জুন এখানে তাই করছেন। ভগবান কৃষ্ণ তাকে এটাই শেখাবেন যে, যদি ধর্মের প্রয়োজনে গুরুকেও দণ্ড দিতে হয়, তবে তা দণ্ড নয়, বরং তা কর্তব্য। এই শ্লোকটি আমাদের ব্যক্তিগত আবেগ এবং সামাজিক কর্তব্যের মধ্যেকার সুক্ষ্ম ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলে।