সরল ভাবার্থ
হে কৌন্তেয়! যত্নশীল ও বিবেকবান মানুষের মনকেও এই প্রমথনকারী বা অত্যন্ত শক্তিশালী ইন্দ্রিয়গুলো জোরপূর্বক হরণ করে বিপথে নিয়ে যায়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে ইন্দ্রিয়ের ভয়াবহ শক্তির কথা বলে অর্জুনকে সতর্ক করছেন। তিনি বলছেন—'ইন্দ্রিয়াণি প্রমাথীনি'। প্রমাথী মানে হলো যা মন্থন করে ফেলে বা যা অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও শক্তিশালী। এমনকি একজন 'বিপশ্চিতঃ' বা অত্যন্ত পণ্ডিত ও বিবেকবান মানুষ, যিনি অনেকদিন ধরে নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করছেন (য়ততো), তাঁর মনকেও এই ইন্দ্রিয়গুলো এক নিমেষে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। এটি যেন এক মত্ত হস্তীর মতো যা তার মাহুতকেও মানতে চায় না।
এই শ্লোকটি আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আমরা অনেক সময় মনে করি আমরা সংযমী হয়ে গেছি, কিন্তু সামান্য একটি অসতর্ক মুহূর্তেই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো আমাদের বুদ্ধিকে গ্রাস করতে পারে। অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ 'কৌন্তেয়' বলে ডেকেছেন এবং বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে শত্রু কেবল বাইরে নেই, শত্রু আছে নিজের শরীরের ভেতরেও। এই ইন্দ্রিয়গুলো আমাদের সংকল্পকে ভেঙে দেয়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো মনের দুর্বলতা স্বীকার করা। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে নিজের শক্তির ওপর অতিরিক্ত অহংকার করা ঠিক নয়। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো এতই শক্তিশালী যে তারা বুদ্ধিকে জোরপূর্বক (প্রসভং) হরণ করে। তাই কেবল চেষ্টা বা যত্ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরমাত্মার শরণাগতি—যা তিনি পরের শ্লোকে বলবেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিক পথে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা সবসময় থাকে। ইন্দ্রিয়ের এই মত্ততাকে অবহেলা করা মানে পরাজয়কে ডেকে আনা। অর্জুনকে রণাঙ্গনের লড়াইয়ের চেয়েও কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন শ্রীকৃষ্ণ—সেটি হলো নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার লড়াই।