সরল ভাবার্থ
প্রচুর জল প্রবেশ করলেও সমুদ্র যেমন স্থির ও বিচলিত হয় না, তেমনি যাঁর হৃদয়ে সমস্ত কামনা প্রবেশ করেও কোনো বিকার বা চাঞ্চল্য তৈরি করে না, তিনিই শান্তি লাভ করেন; কিন্তু বিষয়কামী ব্যক্তি শান্ত হয় না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে সমুদ্রের এক রাজকীয় উদাহরণ দিয়েছেন। হাজার হাজার নদী দিনরাত সমুদ্রে জল ঢালছে, কিন্তু সমুদ্র কি কোনোদিন তাঁর কূল ছাপিয়ে যায়? বা সে কি গর্বিত হয়ে ওঠে? না। সমুদ্র যেমন সবসময় পরিপূর্ণ এবং স্থির, একজন স্থিতপ্রজ্ঞের হৃদয়ও তেমনই। জগতের সমস্ত প্রলোভন বা কামনা তাঁর মনে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু তা তাঁকে বিচলিত করতে পারে না। তিনি শান্ত থাকেন কারণ তিনি নিজের ভেতরেই পূর্ণ।
অন্যদিকে 'কামকামী' ব্যক্তি হলো একটি ছোট বালতির মতো। সামান্য একটু জল (কামনা) পড়লেই তা উপচে পড়ে বা খালি হয়ে যায়। ভোগীরা ভাবে যে তারা যত বেশি ভোগ করবে, তত বেশি শান্ত হবে। কিন্তু এটি আগুনের মধ্যে ঘি ঢালার মতো—কামনা কেবল বাড়তেই থাকে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে শান্তি কেবল তাঁরই জন্য যাঁর হৃদয় সমুদ্রের মতো বিশাল এবং গভীর।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আত্মতুষ্টির মহিমা। অর্জুনকে রণাঙ্গনে এই সমুদ্রের মতো বিশালতা অর্জন করতে হবে। চারদিকের হাহাকার বা জয়-পরাজয়ের আনন্দ যেন তাঁর ভেতরের শান্ত সমুদ্রকে টলাতে না পারে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জগতের কোলাহল থেকে পালানোর প্রয়োজন নেই, বরং নিজের মনকে এত বড় করো যাতে কোনো কিছুই তোমাকে ছোট করতে না পারে। যার হৃদয়ে ঈশ্বর বিরাজ করেন, তাঁর কাছে জগতের সমস্ত প্রলোভন সমুদ্রের জলের মতোই নগণ্য।