॥ অধ্যায় ২, শ্লোক ৭২ ॥

এষা ব্রাহ্মী স্থিতিঃ পার্থ নৈনাং প্রাপ্য বিমুহ্যতি ।
স্থিত্বাস্যামন্তকালেঽপি ব্রহ্মনির্বাণমৃচ্ছতি ॥ ২.৭২ ॥

সরল ভাবার্থ

হে পার্থ! এটিই হলো ব্রাহ্মী স্থিতি বা ব্রহ্মনিষ্ঠ অবস্থা। এই অবস্থা লাভ করলে মানুষ আর কখনো মোহাচ্ছন্ন হয় না। এমনকি মৃত্যুর অন্তিমকালেও যদি কেউ এই অবস্থাতে স্থিত থাকে, তবে সে ব্রহ্মনির্বাণ বা মুক্তি লাভ করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় অধ্যায়ের এই অন্তিম শ্লোকটি অর্জুনকে চূড়ান্ত গন্তব্যের কথা বলছে। শ্রীকৃষ্ণ একে বলছেন 'ব্রাহ্মী স্থিতি'—যা হলো আত্মার পরম প্রশান্তি। একবার যদি কেউ সত্যের এই আলোতে পৌঁছায়, তবে কোনো মোহ বা অন্ধকার তাকে আর গ্রাস করতে পারে না। তিনি জগতের সমস্ত বিভ্রান্তির ঊর্ধ্বে চলে যান।

এই শ্লোকটির সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো—'স্থিত্বাস্যামন্তকালেঽপি'। অর্থাৎ সারা জীবন যদি কেউ মোহাচ্ছন্ন থাকে, কিন্তু মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও যদি সে এই দিব্য জ্ঞান লাভ করে পরমাত্মার শরণ নেয়, তবে সে মুক্তি বা ব্রহ্মনির্বাণ লাভ করবে। এটি ঈশ্বরের অপার করুণার প্রতীক। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করবো, কারণ মৃত্যুর সময় মনকে স্থির রাখা অত্যন্ত কঠিন যদি সারা জীবন সাধনা না করা হয়।

ধর্মীয় বিচারে, অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ এটি বলছেন যাতে তিনি যুদ্ধের ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেন। মৃত্যু যদি অবধারিতও হয়, তবে এই ব্রহ্মজ্ঞানে স্থিত হয়ে দেহ ত্যাগ করলে কোনো ক্ষতি নেই, বরং তা পরম প্রাপ্তি। এই শ্লোকটি দিয়ে 'সাঙ্খ্যযোগ' অধ্যায়টি শেষ হচ্ছে, যা আমাদের আত্মজ্ঞান এবং নিষ্কাম কর্মের পথ দেখিয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের আশ্বস্ত করছেন যে প্রকৃত শান্তি কেবল মৃত্যুর পর নয়, এই জীবনেই সম্ভব যদি আমরা ব্রাহ্মী স্থিতিতে পৌঁছাতে পারি। এটিই হলো গীতার মূল ঘোষণা—ভয়হীনতা এবং সত্যে প্রতিষ্ঠা।