সরল ভাবার্থ
পৃথিবীর একচ্ছত্র ধনধান্যপূর্ণ রাজ্য অথবা দেবতাদের আধিপত্য লাভ করলেও আমার ইন্দ্রিয়গুলোকে শুকিয়ে ফেলা এই শোককে দূর করার কোনো উপায় আমি দেখছি না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুন এখানে একটি অত্যন্ত গভীর মানসিক যন্ত্রণার কথা বলছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে বাইরের কোনো প্রাপ্তি—তা সে পৃথিবীর সিংহাসন হোক বা স্বর্গের রাজত্ব—তাঁর ভেতরের শূন্যতা ও শোক মেটাতে পারবে না। এই শোক তাঁর ইন্দ্রিয়গুলোকে যেন দহন করে ফেলছে ('উচ্ছোষণমিন্দ্রিয়াণাম্')। মানুষ সাধারণত মনে করে টাকা-পয়সা বা ক্ষমতা থাকলে সব দুঃখ চলে যাবে। কিন্তু অর্জুন এখানে সেই মিথ্যার পর্দা সরিয়ে দিচ্ছেন।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে মানসিক প্রশান্তি এবং জাগতিক সমৃদ্ধি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। অর্জুনের শোক হলো অস্তিত্বগত। তিনি জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। যখন মানুষের মন অশান্ত থাকে, তখন সে রাজপ্রাসাদে থাকলেও জ্বলতে থাকে। অর্জুন কৃষ্ণকে বলতে চাইছেন যে, কোনো বৈষয়িক প্রলোভন তাঁকে এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারবে না; তাঁর কেবল আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রয়োজন যা তাঁর আত্মাকে শান্ত করবে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো বৈরাগ্যের পরিপক্বতা। যখন কেউ বোঝে যে পুরো পৃথিবীটা পেলেও তার আত্মার তৃপ্তি হবে না, তখনই সে প্রকৃত সত্যের সন্ধানী হয়। অর্জুন যে পাণ্ডিত্যের দোহাই দিয়ে যুদ্ধ ছাড়তে চেয়েছিলেন, তা এখন তাঁর কোনো কাজে আসছে না। এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে চরম সংকটের সময় আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স বা পদমর্যাদা আমাদের শান্তি দেয় না, কেবল ঈশ্বরের কৃপা এবং সঠিক জ্ঞানই আমাদের রক্ষা করে।