সরল ভাবার্থ
যজ্ঞের দ্বারা সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা তোমাদের কাঙ্ক্ষিত ভোগ বা সম্পদ দান করবেন। কিন্তু তাঁদের দেওয়া সেই সম্পদ তাঁদের উৎসর্গ না করে (বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে) যে কেবল নিজেই ভোগ করে, সে আসলে একজন 'চোর'।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এখানে শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত কড়া ভাষায় কৃতজ্ঞতাহীন মানুষের নিন্দা করেছেন। তিনি বলছেন, দেবতারা বা প্রকৃতি আমাদের সব দিচ্ছেন—ফল, মূল, শস্য, বুদ্ধি ও শক্তি। এই সবকিছুই দেবতাদের দান। কিন্তু মানুষ যদি মনে করে এই সব আমার নিজের অর্জন এবং অন্যকে সাহায্য না করে বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে একা ভোগ করে, তবে সে হলো 'স্তেন' বা চোর।
এই শ্লোকটি আমাদের সম্পদ বন্টন এবং ত্যাগের মহিমা শেখায়। প্রাচীনকালে কোনো কিছু খাওয়ার আগে বা পাওয়ার আগে যজ্ঞ করা হতো কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। বর্তমান সময়ে 'যজ্ঞ' মানে হলো আর্তমানবতার সেবা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। আমি যদি সমাজে বাস করে সমাজের থেকে সুবিধা নিয়ে কেবল নিজের স্বার্থসিদ্ধি করি, তবে আমি একজন চোর। কারণ আমি জগত থেকে নিচ্ছি, কিন্তু দিচ্ছি না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো ত্যাগের গুরুত্ব। হিন্দু ধর্মে 'পঞ্চ মহাযজ্ঞ'-এর কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ঋষি, পিতৃপুরুষ, দেবতা, মানুষ এবং প্রাণীদের প্রতি আমাদের ঋণ স্বীকার করি। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে যুদ্ধ না করে পালানো হবে এই ঋণের প্রতি অসম্মান। অর্জুন ক্ষত্রিয় হিসেবে প্রজাদের রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব পালন না করে কেবল নিজের মুক্তির কথা ভাবা হলো এক প্রকার চৌর্যবৃত্তি। এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভোগ করার আগে উৎসর্গ করা এবং ত্যাগ করাই হলো প্রকৃত মানুষের ধর্ম।