সরল ভাবার্থ
সজ্জনেরা যজ্ঞের অবশিষ্ট অন্ন ভক্ষণ করে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পান। কিন্তু সেইসব পাপিষ্ঠেরা যারা কেবল নিজেদের উদরপূর্তির জন্য অন্ন রান্না করে, তারা আসলে অন্ন নয়—পাপই ভক্ষণ করে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি অত্যন্ত গভীর জীবনদর্শন প্রকাশ করে। এখানে 'যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ' কথাটির অর্থ হলো যজ্ঞে নিবেদিত অন্ন। এর ভাবার্থ হলো—জীবনের প্রতিটি কর্ম এবং প্রাপ্তিকে ভগবানের দান মনে করে যারা গ্রহণ করে, তারা পবিত্র। আমরা যখন রান্না করি বা খাবার খাই, তখন যদি ভাবি যে এটি আমি ঈশ্বরের সেবার জন্য প্রস্তুত করছি এবং নিজে খাওয়ার আগে অন্যকে (জীবকে বা ক্ষুধার্তকে) দিচ্ছি, তবে সেই খাবার আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করে।
বিপরীতভাবে, যারা অত্যন্ত স্বার্থপর এবং কেবল নিজেদের তৃপ্তির জন্য ভোগ করে ('আত্মকারণাত'), তারা আসলে নিজেদের অজান্তে কেবল পাপ সঞ্চয় করছে। হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, আমাদের রান্নায় পাঁচটি পাপ অবধারিত থাকে—যেমন শস্য পেষার সময় বা আগুন জ্বালানোর সময় ছোট প্রাণীর অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু। যারা কেবল নিজের জন্য রাঁধে, তারা সেই পাপের ভাগী হয়। কিন্তু যারা যজ্ঞের ভাব নিয়ে রাঁধে, অর্থাৎ ঈশ্বর ও জীবের কথা স্মরণে রেখে কাজ করে, তারা সেই কর্মফল থেকে মুক্ত হয়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো সেবার আদর্শ। খাবার বা সম্পদ কেবল পেট ভরার বা বিলাসিতার মাধ্যম নয়, এটি হলো ভগবানকে অর্পণের উপকরণ। অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বোঝাতে চাইছেন যে, যুদ্ধ করা যদি অধর্ম মনে হয় তবে জেনে রাখো, আসক্তিহীন হয়ে ধর্মের জন্য যুদ্ধ করা হলো যজ্ঞ। আর সেই যজ্ঞের ফল ভোগ করা মানে পরম শান্তি লাভ। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে প্রতিটি গ্রাস নেওয়ার সময় আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং ভোগের আগে অন্তত ক্ষুদ্র এক অংশ উৎসর্গ করা উচিত। স্বার্থপরতাই হলো প্রকৃত নরক, আর সেবাই হলো স্বর্গ।