সরল ভাবার্থ
অন্ন থেকে সমস্ত প্রাণী উৎপন্ন হয়; বৃষ্টি থেকে শস্য বা অন্ন উৎপন্ন হয়; যজ্ঞ থেকে বৃষ্টি হয় এবং যজ্ঞ কর্ম থেকেই উৎপন্ন হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে সৃষ্টির এক অমোঘ প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক চক্রের (Cycle) বর্ণনা দিয়েছেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা একে অপরের সাথে যুক্ত। প্রাণী বাঁচে অন্নের ওপর নির্ভর করে। অন্ন বা শস্য হয় যখন আকাশ থেকে বৃষ্টি নামে। আর শাস্ত্রীয় মতে, যজ্ঞের ফলেই পর্জন্য বা বৃষ্টি হয়। এখানে 'যজ্ঞ' মানে কেবল পূজা নয়, বরং মানুষের সম্মিলিত শুভ কর্ম এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।
এই চক্রটি আমাদের জীবনের গতিশীলতাকে প্রকাশ করে। শ্লোকটির শেষে বলা হয়েছে 'যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ'—অর্থাৎ কর্ম থেকেই যজ্ঞের জন্ম। কর্ম ছাড়া কোনো যজ্ঞ সম্ভব নয়। তাই কর্মহীন থাকা মানে এই জীবনচক্রকে থামিয়ে দেওয়া। যদি মানুষ কর্ম না করে, তবে যজ্ঞ হবে না; যজ্ঞ না হলে বৃষ্টি হবে না; বৃষ্টি না হলে অন্ন হবে না এবং প্রাণীকুল ধ্বংস হবে। এটি একটি চেইন রিঅ্যাকশন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো পরিবেশ রক্ষার চরম দর্শন। আমরা যখন প্রকৃতির নিয়ম মেনে কাজ করি, প্রকৃতি তখন আমাদের পুষ্ট করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে যুদ্ধ না করে যদি তুমি নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকো, তবে তুমি এই সৃষ্টিচক্রকে ব্যাহত করবে। তোমার যুদ্ধ করা মানে অধর্মের বিনাশ করা, যাতে সমাজে শান্তি ফেরে এবং এই ধর্মযজ্ঞ বজায় থাকে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আমাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র কাজের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমরা যদি কর্মে অবহেলা করি, তবে তার ফল পুরো সমাজকে ভোগ করতে হয়। জীবন মানেই হলো একটি নিরন্তর যজ্ঞ যেখানে কর্মই হলো প্রধান আহুতি।