সরল ভাবার্থ
জেনে রেখো, কর্ম বেদ থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং বেদ অক্ষরব্রহ্ম বা পরমেশ্বর থেকে এসেছে। অতএব, সর্বব্যাপী ব্রহ্ম সর্বদা যজ্ঞের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত আছেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি কর্মের উৎস এবং তার পবিত্রতা বর্ণনা করে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে আমরা যেসব কাজ বা কর্তব্য পালন করি, তার নির্দেশ এসেছে 'ব্রহ্ম' বা বেদ থেকে। আর সেই বেদ এসেছে সরাসরি অবিনাশী পরমেশ্বর থেকে। অর্থাৎ কাজ করা মানে সরাসরি ঈশ্বরের দেওয়া পথ অনুসরণ করা। এটি কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়; কর্মের মূল প্রোথিত আছে পরম সত্যের গভীরে।
'সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং য়জ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্'—কথাটির অর্থ হলো, যেখানে যজ্ঞ (নিঃস্বার্থ কর্ম) হয়, ঈশ্বর সেখানে সশরীরে বিরাজমান থাকেন। ঈশ্বরকে মন্দিরে বা বনের ভেতরে না খুঁজে নিজের কর্মের মাঝে খোঁজার কথা বলা হয়েছে। আমরা যখন নিষ্ঠার সাথে কোনো কাজ করি, তখন সেই কাজের মাধ্যমে আমরা ব্রহ্মের সাথে যুক্ত হই। এই তত্ত্বটি কর্মকে আধ্যাত্মিকতার শীর্ষে নিয়ে যায়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো ভগবানের সান্নিধ্য লাভের সহজতম উপায়। অনেকে মনে করেন ধ্যান করলেই ঈশ্বর পাওয়া যায়, কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন যে যজ্ঞের মতো পবিত্র কর্মের মাঝেই তিনি সর্বদা থাকেন। অর্জুনের যুদ্ধ যদি যজ্ঞ হয়, তবে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সেই যুদ্ধে তাঁর সাথে আছেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কাজ থেকে পালানো মানে ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাওয়া। আমরা যদি আমাদের প্রাত্যহিক কাজগুলো যজ্ঞের মতো শুদ্ধভাবে করি, তবে আলাদা করে অন্য কোনো উপাসনার প্রয়োজন নেই। কারণ পরমেশ্বর নিজেই সেই কর্মের মধ্যে অধিষ্ঠান করছেন। এটিই হলো কর্মযোগের চূড়ান্ত আশ্বাস।