॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ১৬ ॥

এবং প্রবর্তিতং চক্রং নানুবর্তয়তীহ যঃ ।
অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামো মোঘং পার্থ স জীবতি ॥ ৩.১৬ ॥

সরল ভাবার্থ

হে পার্থ! যে ব্যক্তি এই জগতে প্রবর্তিত এই সৃষ্টিচক্রকে (যজ্ঞচক্র) অনুসরণ করে না, সে ইন্দ্রিয়সুখে মত্ত হয়ে পাপময় জীবন অতিবাহিত করে এবং তার বেঁচে থাকা বৃথা।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে অত্যন্ত কঠোরভাবে সেই সব মানুষের সমালোচনা করেছেন যারা কেবল নিজের জন্য বাঁচে। আগের শ্লোকগুলোতে তিনি দেখিয়েছেন অন্ন, বৃষ্টি, যজ্ঞ এবং কর্মের মধ্যে যে চক্রাকার সম্পর্ক আছে। এই শ্লোকে তিনি বলছেন, যে এই চক্রকে মানে না সে হলো 'অঘায়ু' বা পাপী। 'ইন্দ্রিয়ারামঃ' কথাটির অর্থ হলো যে কেবল নিজের চোখের শান্তি, জিভের স্বাদ বা গায়ের আরামের কথা ভাবে।

এই সৃষ্টিচক্র হলো এক প্রকার 'টিম ওয়ার্ক'। সমাজ ও প্রকৃতি আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে, আর আমাদের কাজ হলো বিনিময়ে সমাজকে কিছু দেওয়া। একজন মানুষ যদি সমাজ থেকে শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং খাদ্য নেয় কিন্তু বিনিময়ে কোনো কর্তব্য পালন না করে, তবে সে এই ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করে। ভগবান বলছেন, এমন স্বার্থপর মানুষের জীবন 'মোঘং' বা নিরর্থক।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো অলসতা ও স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী। অর্জুন যদি যুদ্ধ না করে পালান, তবে তিনি ক্ষত্রিয় হিসেবে তাঁর ওপর অর্পিত 'চক্র' ভঙ্গ করবেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আমরা যে কাজই করি না কেন, তা যেন বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে হয়। যদি আমরা কেবল নিজের পেট ভরার জন্য কাজ করি, তবে পশুর সাথে আমাদের কোনো তফাত থাকে না। প্রকৃত ধার্মিক সেই, যে এই মহাজাগতিক চক্রে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অংশ নেয়।