সরল ভাবার্থ
কিন্তু যে মানুষ আত্মাতেই প্রীতি লাভ করেন, আত্মাতেই তৃপ্ত এবং আত্মাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, তাঁর জন্য কোনো করণীয় কর্তব্য থাকে না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির চরম অবস্থার কথা বলে। সাধারণ মানুষ কেন কাজ করে? কারণ সে মনে করে বাইরের কোনো বস্তু বা ব্যক্তি তাকে আনন্দ দেবে। আমরা টাকা উপার্জনে ব্যস্ত থাকি কারণ আমরা ভাবি টাকা সুখ দেবে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ এখানে এমন এক ব্যক্তির কথা বলছেন যিনি নিজের আত্মার ভেতরেই পরমানন্দ খুঁজে পেয়েছেন।
তিনটি বিশেষ অবস্থা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে: 'আত্মরতি' (আত্মায় প্রীতি), 'আত্মতৃপ্তি' এবং 'আত্মসন্তুষ্টি'। যখন কোনো ব্যক্তি ধ্যান বা জ্ঞানের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে তিনি এই নশ্বর শরীর নন বরং অবিনাশী আত্মা, তখন তাঁর জাগতিক কোনো চাহিদা থাকে না। তিনি তখন মহাসমুদ্রের মতো শান্ত হয়ে যান। এমন ব্যক্তির জন্য শাস্ত্র কোনো নিয়ম বা কর্তব্য চাপিয়ে দেয় না। কারণ তিনি অলরেডি সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন যে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মানুষ ধর্ম পালন করে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো জীবনমুক্তির অবস্থা। অর্জুন যে সন্ন্যাস নিতে চেয়েছিলেন, কৃষ্ণ এখানে তার সংজ্ঞা পরিষ্কার করছেন। সন্ন্যাস মানে কাজ থেকে পালানো নয়, বরং নিজের ভেতরে পূর্ণতা খুঁজে পাওয়া। যদি মনের ভেতর বাসনা থাকে আর কেউ কাজ ছেড়ে দেয়, তবে সে কেবল অলস। কিন্তু যাঁর কোনো বাসনা নেই, তাঁর কাজ করার আবশ্যকতাও নেই। তবে মনে রাখতে হবে, এমন মহাপুরুষের সংখ্যা খুবই কম। অর্জুনকে কৃষ্ণ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যতক্ষণ এই পূর্ণতা আসছে না, ততক্ষণ কর্মই হলো শ্রেষ্ঠ পথ।