॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ১৮ ॥

নৈব তস্য ক্বতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন ।
ন চাস্য সর্বভূতেষু কশ্চিদর্থব্যপাশ্রয়ঃ ॥ ৩.১৮ ॥

সরল ভাবার্থ

এই জগতে সেই আত্মতৃপ্ত ব্যক্তির কর্ম করাতে কোনো লাভ নেই, আবার কর্ম না করলেও কোনো ক্ষতি নেই। অধিকন্তু, তাঁর কোনো প্রয়োজনেই কোনো প্রাণীর ওপর নির্ভর করতে হয় না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

যিনি আত্মজ্ঞানী, তাঁর কাছে জগতের সব কিছুই সমান। আমরা সাধারণত 'লাভ-ক্ষতি'র হিসেবে জীবন চালাই। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, মুক্ত পুরুষের কাছে কাজ করা বা না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি কাজ করলেও তাঁর অহংকার নেই যে আমি করছি, আবার না করলেও তাঁর মনে কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি কোনো কিছুর জন্যই জগতের কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর নির্ভরশীল নন।

এই শ্লোকটি আমাদের 'সম্পূর্ণ স্বাধীনতার' (Self-reliance) শিক্ষা দেয়। আমরা সাধারণত আমাদের সুখের জন্য পরিবারের ওপর, অর্থের ওপর বা সমাজের সম্মানের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু যখন একজন মানুষ ঈশ্বরের সাথে বা নিজের আত্মার সাথে যুক্ত হন, তখন তাঁর সেই পরাধীনতা ঘুচে যায়। তিনি একাকী থাকলেও পূর্ণ।

ধর্মীয় বিচারে, এই স্তরের মানুষ হলেন সত্যিকারের পথপ্রদর্শক। তাঁরা কর্ম করেন কেবল দয়া করে বা জগতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তাঁদের কোনো ব্যক্তি স্বার্থ থাকে না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে, এমন উচ্চ অবস্থায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। অর্জুন যেহেতু এখনও ফলের চিন্তা করছেন (পাপ হবে কি হবে না), তাই তাঁর জন্য আসক্তিহীন কর্মই এখনকার প্রধান কাজ। এই শ্লোকটি আমাদের দেখায় যে চূড়ান্ত আধ্যাত্মিকতা মানে কোনো জড় বস্তুর দাসে পরিণত না হওয়া।