সরল ভাবার্থ
অতএব, ফলের প্রতি আসক্তিহীন হয়ে নিরন্তর তোমার কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করো। কারণ আসক্তিহীনভাবে কর্ম করলে মানুষ পরম পদ (মুক্তি) লাভ করে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি কর্মযোগের মূল শ্লোক। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে একটি সহজ সূত্র দিচ্ছেন। তিনি বলছেন—তুমি জ্ঞানীর মতো আত্মতৃপ্ত হতে চাও? তবে তাঁর মতো কর্ম করো। জ্ঞানী ব্যক্তি আসক্তিহীন হয়ে কাজ করেন, তুমিও তাই করো। 'তস্মাৎ' মানে হলো—যেহেতু কর্মত্যাগ করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই কর্মের বিষটুকু (আসক্তি) ফেলে দিয়ে কর্মটুকুই গ্রহণ করো।
আসক্তিহীনতা মানে এই নয় যে কাজে ফাঁকি দেওয়া। বরং আসক্তিহীন কর্মে একাগ্রতা বেশি থাকে কারণ কর্মফল নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে না। আমরা যখন ফলের কথা ভেবে কাজ করি, তখন আমাদের অর্ধেক মনোযোগ থাকে ফলের দিকে। ফলে কাজের গুণমান কমে যায়। কিন্তু যখন আমরা কেবল কাজটুকুকে উপাসনা মনে করি, তখন আমরা শ্রেষ্ঠ কাজ করতে পারি।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো মুক্তির রাজপথ। মুক্তি মানে জগত ছেড়ে পালানো নয়, জগতকে ঈশ্বরময় দেখে কাজ করা। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, যুদ্ধ করা যদি তোমার আসক্তিহীন কর্তব্য হয়, তবে সেই যুদ্ধই তোমাকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যাবে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কর্মই হলো বন্ধন এবং কর্মই হলো মুক্তি—তফাত কেবল আমাদের মনের ভাবে। নিরন্তর নিজের কাজ করে যাওয়া এবং ফল ভগবানের ওপর ছেড়ে দেওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ সাধনা।