॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ২০ ॥

কর্মণৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থিত জনকা দয়ঃ ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন কর্তুমর্হসি ॥ ৩.২০ ॥

সরল ভাবার্থ

জনক প্রমুখ রাজর্ষিরা কেবল কর্মের মাধ্যমেই পরম সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। এমনকি লোকশিক্ষার (জনকল্যাণের) স্বার্থে হলেও তোমার কর্ম করা উচিত।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দিচ্ছেন। রাজা জনক ছিলেন একজন পূর্ণ জ্ঞানী ব্যক্তি, কিন্তু তিনি রাজ্য চালানো বা নিজের দায়িত্ব ত্যাগ করেননি। তিনি সংসারের মাঝখানে থেকেই কর্মযোগের মাধ্যমে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, যদি তুমি মনে করো তুমি জ্ঞানী হয়ে গেছ, তবুও তোমার কাজ করা উচিত। কেন? কারণ 'লোকসংগ্রহ' বা সমাজকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য।

একজন নেতা বা সম্মানীয় ব্যক্তি যদি কাজ করা ছেড়ে দেন, তবে সাধারণ মানুষও তাঁকে দেখে অলস হয়ে যাবে। এতে সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। জনক রাজা জানতেন যে তাঁর নিজের জন্য কোনো কাজের দরকার নেই, কিন্তু প্রজাদের কল্যাণে তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা। আধ্যাত্মিকতা মানে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। সমাজকে স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের মধ্যে কর্মস্পৃহা বজায় রাখা একজন শ্রেষ্ঠ মানুষের কর্তব্য। অর্জুন সমাজের একজন বীর ও আদর্শ। তিনি যদি রণাঙ্গন থেকে পালিয়ে যান, তবে ভবিষ্যতে কেউ আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না। তাই নিজের জন্য না হলেও সমাজের মঙ্গলের জন্য অর্জুনকে যুদ্ধে নামতে হবে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আমাদের প্রতিটি কাজ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত।