॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ২১ ॥

যদ্যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ ।
স যৎপ্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে ॥ ৩.২১ ॥

সরল ভাবার্থ

শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যা যা আচরণ করেন, সাধারণ মানুষও ঠিক তাই করে। তিনি যেটিকে প্রমাণ (আদর্শ) হিসেবে গ্রহণ করেন, সমগ্র সমাজ তাঁরই অনুবর্তী হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী একটি শ্লোক। এখানে নেতৃত্বের (Leadership) এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ স্বভাবতই কোনো আদর্শকে অনুসরণ করতে চায়। সমাজের 'শ্রেষ্ঠ' বা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা—তাঁরা রাজা হোন, শিক্ষক হোন বা কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব—তাঁদের আচার-আচরণই সমাজের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।



শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ পুরুষ। অর্জুন যদি আজ রণক্ষেত্র ত্যাগ করে 'অহিংসা' বা 'সন্ন্যাস'-এর দোহাই দেন, তবে সাধারণ মানুষও সেই ভুল দৃষ্টান্ত শিখবে। তারা কঠিন সময়ে দায়িত্ব এড়ানোকে 'ধর্ম' মনে করবে। এর ফলে সমাজে ভীরুতা ও শৃঙ্খলহীনতা ছড়িয়ে পড়বে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আমাদের প্রত্যেকের ওপর অর্পিত নৈতিক দায়িত্ব। আমরা হয়তো বুঝতে পারি না, কিন্তু আমাদের পরিবারে বা বন্ধুদের মধ্যে আমাদের আচরণ অন্যকে প্রভাবিত করে। একজন পিতা যদি সৎ হন, তবে সন্তান সহজেই সততা শেখে। শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে বলছেন যে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার চেয়ে সমাজের ওপর তাঁর প্রভাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁকে এমন কিছু করা উচিত যা আগামী প্রজন্মের জন্য এক সাহসী ও গৌরবময় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। নেতাকে কেবল কথা বললে চলে না, তাঁকে কাজ করে দেখাতে হয়।