সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! ত্রিভুবনে আমার (ঈশ্বরের) কোনো কর্তব্য নেই। আমার অপ্রাপ্ত কোনো কিছু নেই যা পেতে হবে, তবুও আমি নিরন্তর কর্মেই নিযুক্ত আছি।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিজের উদাহরণ দিচ্ছেন। তিনি স্বয়ং পূর্ণব্রহ্ম পরমেশ্বর। তাঁর কোনো অভাব নেই, তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। তিনি না চাইলেও পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তাঁর ইচ্ছায় চলছে। তবুও তিনি পৃথিবীতে অবতার হয়ে সাধারণ মানুষের মতো সব কাজ করছেন—তিনি গরু চরিয়েছেন, রথ চালাচ্ছেন, রাজদূত হয়েছেন। কেন?
ভগবান কাজ করছেন কেবল আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তিনি যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতেন, তবে মানুষ ভাবত যে ঈশ্বরই যখন কিছু করেন না, তখন আমাদের কাজের কী দরকার? শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে এই চরম সত্যটি বোঝাচ্ছেন যে, কাজ কোনো বোঝা নয়। কাজ হলো আনন্দের প্রকাশ। ভগবান কাজের ঊর্ধ্বে হয়েও কাজের মাঝখানে আছেন কারণ তিনি জগতকে ভালোবাসেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'নিষ্কাম কর্ম'-এর চরম আদর্শ। ঈশ্বর আমাদের শেখাচ্ছেন যে পাওয়া না-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠেও কাজ করা যায়। আমাদের প্রতিটি কাজ যেন ঈশ্বরের মতো পবিত্র এবং নিঃস্বার্থ হয়। অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, দেখো, আমি তোমার রথ চালাচ্ছি, এতে আমার কোনো স্বার্থ নেই। আমি যদি কাজ করতে পারি, তবে তুমি কেন করবে না? এই শ্লোকটি আমাদের অলসতা ত্যাগ করে আনন্দ চিত্তে নিজের দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করে।