॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ২৩ ॥

যদি হ্যহং ন বর্ভেয়ং জাতু কর্মণ্যতন্দ্রিতঃ ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥ ৩.২৩ ॥

সরল ভাবার্থ

হে পার্থ! আমি যদি অতন্দ্রিত হয়ে (অলসতা ত্যাগ করে) সর্বদা কর্মে নিযুক্ত না থাকি, তবে জগতের সকল মানুষই আমার পথ অনুসরণ করবে (অর্থাৎ তারাও কর্মহীন হয়ে পড়বে)।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত বিনয় এবং দায়িত্ববোধের সাথে কথা বলছেন। তিনি বলছেন, ঈশ্বর বা অবতার যদি নিজের কাজ ঠিকমতো না করেন, তবে সাধারণ মানুষও অলস হয়ে যাওয়ার অজুহাত পাবে। মানুষ সবসময় নেতাদের বা মহাপুরুষদের অনুকরণ করে। শ্রীকৃষ্ণ যদি আজ যুদ্ধের ময়দানে রথ চালানো বা অর্জুনকে পথ দেখানো বন্ধ করে দেন, তবে সাধারণ মানুষ ভাববে—ভগবানই যখন কিছু করছেন না, তখন আমার খেটে কী লাভ?

'অতন্দ্রিতঃ' শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে হলো তন্ত্রা বা অলসতা ছাড়া কাজ করা। ভগবান প্রকৃতির প্রতিটি কণা পরিচালনা করছেন এক মুহূর্ত বিরতি না দিয়ে। সূর্য ঠিক সময়ে উঠছে, বাতাস বইছে—এগুলো ভগবানেরই কাজ। তিনি যদি এক মুহূর্তের জন্য এই 'কর্ম' থামিয়ে দেন, তবে মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো নেতৃত্বের শিক্ষা। একজন নেতা যদি নিজে ফাঁকি দেন, তবে তাঁর অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যায়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, আমি যদি ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়ে কাজ ছেড়ে দিই, তবে পৃথিবী চলবে কীভাবে? আমি তোমাদের জন্যই কাজ করছি। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কোনো কাজই ছোট নয় এবং দায়িত্ব থেকে পালানো মানে অন্য অনেকের ক্ষতি করা। ঈশ্বর আমাদের জন্য কাজ করছেন বলেই আমরা বেঁচে আছি।